Home জেলা উপজেলা সুবর্ণচরে ভুলুয়া সেতুটি যেন মরণফাঁদ

সুবর্ণচরে ভুলুয়া সেতুটি যেন মরণফাঁদ

1874
নোয়াখালীঃ ভুলুয়া নদীর উপর নির্মিত সেতুটির মাটি ধ্বসে সুবর্নচর ও রামগতি সড়ক যোগাযোগ বিভিন্ন

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনদূর্ভোগ চরমে

আব্দুল বারী বাবলু: নেয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার কৃষি অঞ্চল হিসেবে খ্যাত সুবর্ণচর-রামগতি দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ ভুলুয়া নদীর উপর নির্মিত সেতুটির এক পার্শ্বের মাটি ধ্বসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে সেতুটি। জনর্দুভোগ চরম আকার ধারন করেছে।
সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম সীমানা ঘেষে ও রামগতি উপজেলার পূর্ব সীমানা ঘেষে বয়ে যাওয়া ভুলুয়া নদীর উপর ২০০০ সালে ২০০মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের ফলে গড়ে উঠে দুই উপজেলার মাঝে সেতুবন্ধন। সেতুটি নির্মাণের ৩ বছর পর ভুলুয়ার করাল স্রোতে সেতুর পশ্চিম পাশের মাটি ধ্বসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এক যুগেও সংস্কার হয়নি সেতুটি।
ভুলুয়া নদীর পানি পলিসম্বৃদ্ধ হওয়ায় দুই উপজেলা গড়ে উঠেছে কৃষি অর্থনীতি। কৃষকদের দাবীর মুখে তখন এ সেতুটি নির্মান করা হয়। সেতুটি নির্মাণের ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করতে সক্ষম হয়।এতে কৃষকদের মাঝে কৃষি উৎপাদনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। গড়ে উঠে কৃষি অঞ্চল। সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পর থেকে কমে গেছে কৃষি উৎপাদন। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করতে পারছে না সেতুটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে।
এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন লক্ষীপুর,ভোলা,বরিশাল সহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষ যাতায়ত করে। এ সড়ক দিয়ে সুবর্ণচর হয়ে ঢাকা,চট্টগ্রাম,সিলেট এর যোগাযোগ খুবই সহজ। সহজ হয় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজার জাত করতে, এতে কৃষকের পরিবহন খরচও কম পড়ে।

নোয়াখালীঃ সুবর্নচর- রামগতির ভুলুয়া নদীর উপর নির্মিত সেতুটির পাটাতন ধ্বসে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে ।

স্টিলের তৈরী ২০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির উপরের পাটাতন নষ্ট হয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাশের মাটি ধ্বসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে এক যুগ ধরে আবার বন্ধ রয়েছে দুই পাড়ের যোগাযোগ। স্থানীয়রা সেতুটি সংস্কারের জন্য সকল মহলে দেন দরবার করেও কোন কাজ না হওয়ায়, স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে গাছ ও কাঠের পাটাতন তৈরী করে টাকার বিনিময়ে ছোট যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ আজিজুর রহমান,কামাল উদ্দিন ,নিজাম উদ্দিন জানান, সেতুটির দুই পাশে পাকা সড়ক রয়েছে । দীর্ঘ এক যুগ ধরে সেতুটির মাটি ধ্বসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে আমাদের ব্যবসা বানিজ্যে লোকসান গুনছি। তারা জানান প্রতিদিন সাধারণ পথচারী,আবালবৃদ্ধ,রোগী,শিক্ষার্থীসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে সবাই। সেতুটি পার হতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছে ,কেউ পড়েছে নদীতে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এক বছর পূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেতুটি পরিদর্শন করলে ও সংস্কার এর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় , স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় কিছু অসাধু লোক নিজেদের সার্থে এ সেতুটি সংস্কার কাজ থেকে বিরত রাখেছে। সেতুটি মাটি ধ্বসে পড়ার থেকে কাঠের পাঠাতন দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ পথচারীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সেতুটির পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেতুটি স¤পর্ন ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী নারী পুরুষ বৃদ্ব অসুস্থ রোগী সহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে । নষ্ট হয়ে যাওয়া পাটাতনের পাঁকে পাঁ আটকে অনেকেই আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে এলাবাসী ।
সুবর্ণচর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোঃ তাসাউর জানান, সেতুটির সংস্কার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু সেতুটি বেশির ভাগ অংশ রামগতি উপজেলার মধ্যে পড়েছে।তবে যোগাযোগ চলছে উভয় পক্ষ এক হয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Facebook Comments