Home ফিচার সুবর্ণচরে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প, পৃষ্টপোষকতা ও বাজার সৃষ্টি প্রয়োজন

সুবর্ণচরে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প, পৃষ্টপোষকতা ও বাজার সৃষ্টি প্রয়োজন

231
SHARE

আব্দুল বারী বাবলু:  নোয়খালীর সুবর্ণচরে কালের ব্যবধানে নানা প্রতিকূলতায় হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের জনপ্রিয় গ্রামীন শিল্পকর্ম মৃৎশিল্প ও বদলে যাচ্ছে তাদের পেশা।

মানুষ যখন আদিবাস থেকে সভ্যতার আলোয় আলোকিত হতে থাকে তখন বদলে যায় তাদের জীবন ও জীবিকা।জীবনের তাগিদে খাদ্য আর জীবিকার প্রয়োজনে কর্মের সন্ধানে যখন ব্যস্ত হয়ে উঠে মানুষ তখন তাকে ঐতিহ্যের বন্ধনে ধরে রাখা সম্ভব হয় না। বেঁচে থাকার সংগ্রামে সে যে কোন পেশা বদলাতে বাধ্য হয়।এক সঙ্গে হারিয়ে যায় তার প্রিয় পুরোনো পেশা। আধুনিক বিজ্ঞানের প্রযুক্তির চাকায় পৃষ্ঠ হচ্ছে সেই কালের কিছু শিল্পী ও তার শিল্পকর্ম। তারই পথ ধরে সুবর্ণচরে দীর্ঘকাল চলে আসা মৃৎশিল্পকর্ম ও মৃৎশিল্পীরা ,নিজেদের কর্ম হারিয়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে।

বাজারে আধুনিক জিনিস পত্রের উপস্থিতি মৃৎশিল্পীদের ভাবিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত। এক সময় মাটির তৈরি জিনিসপত্রই এক মাত্র বাঙ্গালীয়ানার ঐতিহ্য ছিল। বিজ্ঞানের প্রসার ও আধুনিক কলকারখানা মৃৎশিল্পীদের জীবন ধারনের প্রক্রিয়াকে যেন স্থবির করে দিয়েছে।

এ্যালমুনিয়াম ও প্লাষ্টিকের তৈরি আকর্ষনীয় জিনিস পত্রের কারনে মাটির তৈরি জিনিস পত্রের চাহিদা প্রায় ৯৮ভাগই কমেগেছে।দেশে গ্রামীন জীবনযাত্রায় মাটির তৈরি জিনিস পত্রদেখাগেলেও শহরের সমাজে তেমনটাদেখা যায় না।এক সময়মেলায় মাটির তৈরি জিনিস পত্র ছাড়ামেলা কল্পনা করাযেত না। পৌষের সকালে পিঠা তৈরিতে মাটির খোলা, পাতিল ,ডাকনি এখনও জন প্রিয় গ্রামগঞ্জে ।

সরেজমিন ,পূর্বচরবাটা গ্রামের হরিকমল পাল ,থানেশ্বর পাল,মনরঞ্জন পাল জানান প্লাষ্টিক ও এ্যালমুনিয়ামের জিনিস পত্র বাজারে আসায় আমাদের মাটির তৈরি পণ্য এখন বাজারেতেমন চলে না।বংশপরম্পরায় মাটির কাজ করেবেঁচে আছি আমরা।এখন আর নিজেদের কর্মকে বাঁচাতে পারছি না।

তিনি বলেন মাটির তৈরি জিনিস পত্রের দাম কম ও চাহিদা না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় পূঁজির অভাবে আমরা শিল্পটি বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছি।আমাদের অনেক পরিবার ও শিল্পী এপেশা ছেড়ে দিয়ে এখন বেকার প্রায়। কেউ কেউ অন্যপেশায় চলেগেছে।একই গ্রামের প্রানকোমল পাল,চিত্তরঞ্জ পাল জানান,অন্যপেশায় নাগেলে মৃৎশিল্প আমাদের না খাইয়ে মারতো।
জানাযায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহ করতে অনেক খরচ করতে হয় তাদের ।

এছাড়াও জালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের ।
এ উপজেলায় এক সময় শতশত পরিবার মৃৎশিল্পে কর্ম ,পরিবহন ও বিপণন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এখন তা হাতে গনা কয়েকটি পরিবার মাত্র। গ্রামীন জীবন যাত্রায় এখন ও প্রায় ১০ ভাগ মাটির তৈরি জিনিস পত্র ব্যবহার হচ্ছে ।

মৃৎশিল্পের চলমান অবস্থা সর্ম্পকে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী মোঃ আবু ওয়াদুদ জানান,মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য,সরকার কৃষি ব্যাংক এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্দ্যোগতাদের ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকে।তিনি বলেন এ ছাড়াও বিভিন্ন এন জি ও এসব শিল্পে ঋণ সুবিধা দিয়ে আসছে।দেশের ঐতিয্যবাহী মৃৎশিল্প বেঁচে থাকুক সরকার এটা চায়।তাদের তৈরি পণ্যের বাজার ও তাদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকার যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে এজন্য একটি সুপারিশ মালা পেশ করা হবে।

মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের পণ্যে বাজার সৃষ্টি করা এবং প্রয়েজনীয় পৃষ্টপোষকতা খুবই জুরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্ট জনেরা। পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শিল্পকর্মে প্রশিক্ষিত করে মৃৎশিল্পের সমপযোগী জিনিস পত্র তৈরিতে এবং তাদের পণ্যের বিদেশে বাজার সৃষ্টিতে জুরুরী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here