Home কৃষি ও কৃষক সুবর্ণচরে ভূট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক

সুবর্ণচরে ভূট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক

104
SHARE

আব্দুল বারী বাবলু, সুবর্ণচর : চলতি রবি মৌসুমে সয়াবিন, মুগ, মাসকলাই, বাদাম, মরিচ, সূর্যমুখী, ধান, গম, তরমুজের পাশাপাশি অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভূট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে সুবর্ণচরে। জলবায়ু বান্ধব ঝুঁকি মুক্ত, খরচ ও পরিশ্রম কম থাকায় ভূট্টা চাষে দিন দিন আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচরের কৃষকদের।
উপজেলার চরজব্বর, চরবাটা, চরকার্ক্ল, চরওয়াপদা, চরজুবিলী, চরআমান উল্যাহ, পূর্বচরবাটা, মোহাম্মদপুর ৮টি ইউনিয়নের লবনাক্ত ও পতিত ভূমিতে ভূট্টার চাষ করেছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, ভূট্টা একটি লাভজনক ফসল। ভূট্টা চাষে খরচ খুবই কম। এটি একটি জলবায়ু বান্ধব ও ঝুঁকিমুক্ত স্বল্প মেয়াদী ফসল। এটি যে কোন ধরণের ভূমিতে চাষ করা যায়। ভূট্টায় পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হয়। পানি সেচ ও প্রয়োজন মত জৈবসার ব্যবহার করলে ফলন ভাল হয়। ভূট্টা একর প্রতি ধানের চেয়ে দ্বিগুন ফলন হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর আবাদী ভূমির মধ্যে ৬০ হেক্টর ভূমিতে ভূট্টার চাষ করেছে কৃষক। যা গত রবি মৌসুমে ছিল মাত্র ৫ হেক্টর। উচ্চ ফলনশীল ভূট্টা একর প্রতি ১৪০-৫০ মণ উৎপাদন হয়ে থাকে। সমপরিমান ভূমিতে ধান উৎপাদন হয় ৮০-৮৫ মণ।
উল্লেখ্য চলতি রবি মৌসুমে- সুপার শাইন, টাইগার, ডন, মিরাকেল, বর্ণালী, শুভ্রা, খই ভূট্টা, মোহর, বারি ভূট্টা (৫-৭), বারি উচ্চ ফলনশীল ভূট্টা (১-১১), বারি মিষ্টি ভূট্টা-১ সহ বিভিন্ন জাতের ভূট্টার চাষ হয়ে থাকে আমাদের দেশে। চলতি মৌসুমে সুবর্ণচর উপজেলায় কোহিনুর- ১৮৫০ জাতের ভূট্টার চাষ করেছে কৃষক।
ধান ও গমের তুলনায় ভূট্টার পুষ্টিমান বেশি। এর ইংরেজী নাম- গধরুব, বৈজ্ঞানিক নাম তবধ সধুং, এটি এক প্রকারের খাদ্য শস্য । এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রযোজনীয় এ্যামিনো এসিট, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন আছে অধিক পরিমানে। এ ছাড়া হলদে রংয়ের ভূট্টার দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন “এ” থাকে।
ভূট্টা থেকে পল্ট্রি ফিড, মাছ, গবাদী পশু খাদ্য তৈরি, অ্যাজবেস্টস বোর্ড, প্রসাধন সামগ্রী, বিস্কুট, হরলিকস, কর্নফ্লেক্স, ভোজ্য তেল, খই, রুটি, বিস্কুট তৈরি, অ্যালকোহল, এসিটিক এসিড, সহ কয়েক প্রকার শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও ভূট্টার গাছ ও মোচা জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভূট্টা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা ঝুঁকছে ভূট্টা চাষে।
উপজেলার চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের সাতাইশদ্রোন গ্রামের কৃষক মো: ইব্রাহিম খলিল ও নুর হোসেন জানান, ভূট্টা চাষ খুবই লাভজনক, খরচ কম, ঝুঁকিমুক্ত ও স্বল্প মেয়াদী হওয়ায় আমরা ভূট্টা চাষ করেছি। যে সব ভূমিতে আমরা ভূট্টা চাষ করেছি এসমস্ত ভূমিতে ধান ভাল না হলেও ভূট্টা ভাল হয়। তারা বলেন, লবনাক্ত ও পতিত ভূমিতে ভূট্টা চাষে কোন সমস্যা হয় না বলে এ অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন ভূট্টা চাষে ঝুঁকছে।
চরবাটা ইউনয়নে রহিম উল্যাহ জানান, বাজার থেকে বীজ সংগ্রহ করে এক একর ভূমিতে ভূট্টার চাষ করছি। আশা করি এবার ফলন খুব ভাল হবে। ভূট্টা এখনও এ অঞ্চলের চাষীদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। অনেক কৃষক ভূট্টা চাষ করতে জানে না বলে রবি মৌসুমে তাদের ভূমি অনাবাদী থাকে। অন্যান্য ফসলের ন্যায় ভূট্টা চাষে কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করা প্রয়োজন। কারণ ভূট্টা খুবই লাভজনক ঝুঁকিমুক্ত একটি স্বল্প মেয়াদী ফসল।
শষ্যের ভান্ডার নামে পরিচিতি লাভ করা চির সবুজের আঁচলে ঢাকা সুবর্ণচরের কৃষি ও কৃষককে আধুনিক করে তুলতে পারলে এ অঞ্চলের কৃষি আরো সমৃদ্ধ হবে,স্বপ্ন কৃষকের। প্রয়োজন মত ভেজাল মুক্ত বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ঋন, উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য বাজার সৃষ্টি করতে পারলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে পাররে বলে মত কৃষিবিদদের।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here