Home জাতীয় সুবর্ণচরে পরিবেশ ধ্বংসে চলছে মহা আয়োজন

সুবর্ণচরে পরিবেশ ধ্বংসে চলছে মহা আয়োজন

662
SHARE

আব্দুল বারী বাবলু : শষ্যের ভান্ডার নামে পরিচিত চির সবুজের চাদরে ঢাকা প্রকৃতির শান্তিপ্রিয় জীবপরিবেশকে ধ্বংস করতে উপজেলার চর আমানউল্যাহ্ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমি ও বসত বাড়ির মাঝে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মানের মহা আয়োজন। ইটভাটা স্থাপন আইন না মেনে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনুমতি ছাড়াই ইটভাটাগুলি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা করছে বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের সাতাইশদ্রোণ গ্রামের দরবেশ বাজার রাস্তার মাথা-দাসেরহাট ও বৈরাগী বাজার-কচ্ছপিয়া মার্কেট সড়ক ঘেঁষে এক কিঃমিঃ এর মধ্যে নির্মিত হচ্ছে ৩টি নতুন ইটভাটা। ভাটা এলাকার চারপাশে আমন ধানের ক্ষেত। রয়েছে কয়েকশত বসতি। নির্মাণাধীন ইটভাটা ঘেঁষে এলজিইডির সড়ক। সড়কগুলোর দুই পাশে রয়েছে সামাজিক বনায়ন। ভাটা নির্মাণের বিভিন্ন সামগ্রি আনা-নেয়া হচ্ছে ট্রাক্টরটলিতে। এতে সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নতুন নির্মাণাধিন ইটভাটা ৩টির মধ্যে ২টি দরবেশ বাজার রাস্তার মাথা-দাসেরহাট সড়কের পাশেরটি সাবেক বিএনপি নেতা সদ্য আ.লীগে যোগদানকারী ও আমান উল্যাহ্ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাসেম ওরফে আড়ৎদ্বার কাসেম ও অন্যটি ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়ার। একসময় ভাটার কালো ধোঁয়াই আশ-পাশ অন্ধকার হয়ে যাবে। সামাজিক বনায়ন ও বিভিন্ন বাড়ির ফলজ-বনজ গাছপালাগুলো মরে যাবে।

ইটভাটার মালিক আবুল কাশেম বলেন, প্রত্যেক দপ্তরেই তিনি আবেদন করেছি। আপাতত নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে, কাজ শেষে হতে আরো অন্তত এক বছর লাগবে। এর মধ্যে দপ্তরগুলোর অনুমতিও পেয়ে যাবো। তিনি বলেন, ভাটায় পরিবেশের কিছুটা ক্ষতি হলেও হাজার হাজার মানুষতো উপকৃত হচেছ। সব আইন মানতে গেলেতো আর ভাটাই নির্মাণ করা যাবে না। এদিকে নতুন অপর ভাটার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলার একাধিক সূত্র জানায়, পুরো উপজেলায় ১০-১২টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে আমান উল্যাহ্ ইউনিয়নে চলমান রয়েছে ৩টি। নতুন করে আরো দুটি নির্মাণ হচ্ছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলায় হুড়হুড় করে ভাটাগুলো স্থাপন হয়েছে। নিয়ম-কানুন না মেনে ভাটা স্থাপনের কারণে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে না।

নোয়াখালী পরিবেশ দপ্তরের সহকারি পরিচালক আবদুল মালেক মিঞা বলেন, সুবর্ণচরের নতুন ইটভাটা নির্মাণের বিষয়ে তার দপ্তর অনুমতি দেয়াতো দুরের কথা জানেনও না। তিনি বলেন,কোনো ব্যক্তি ইটভাটা নির্মাণ করতে হলে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। ইটভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী ভাটা নির্মাণের জন্য যে স্থান নির্ধারণ করা হয়- তার এক বর্গকিলোমিটারের মধ্যে সামাজিক বনায়ন, জনবসতি, কৃষি জমি, পৌর শহর, উপজেলা সদর দপ্তর ও স্কুল-কলেজ থাকলে ভাটা নির্মাণ করা যাবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত স্থানের আধা কিলোমিটারের মধ্যে এলজিইডির কোনো সড়ক থাকলেও ভাটা নির্মাণ করার ছাড়পত্র দেয়া যাবে না। আমাদের লোকবল কম। তাছাড়া এ দপ্তরকে কোনো প্রকার প্রশাসনিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি। ফলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা শুধুই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের রয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়খালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের(নোবিপ্রবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক জয়ন্ত কুমার বসাক বলেন, ইটভাটা থেকে গ্রীন হাউস গ্যাস নিস্মরণের ফলে ভাটার আশপাশের ফসল উৎপাদন কমতে থাকে, উপকারি পোকা-মাকড়ের মৃত্যু হয়। বনায়ন ধ্বংস হয়। শিশুসহ সকল বয়সের শ্বাসরোগ ও চর্মরোগ দেখা দেয়। ভাটা এলাকায় সব সময় তাপমাত্রা বেশি থাকে। প্রোপার ডাম্পিং না করা হলে ভাটার ছাঁই পরিবেশ দুষন করে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আবু ওয়াদুদ বলেন, নিয়ম না মেনে কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। যদি ভাটাগুলো নিয়ম-কানুন না মেনে অবৈধভাবে স্থাপিত হয় তাহলে সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here