Home অর্থ ও বানিজ্য সুবর্ণচরে তরমুজ চাষে বেকার যুবকদের আগ্রহ

সুবর্ণচরে তরমুজ চাষে বেকার যুবকদের আগ্রহ

305
dav

আরিফুর রহমানঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা, পূর্ব চরবাটা, চরজুবলী, চরওয়াপদা, চরক্লার্ক, চর কাজী মোখলেছ সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের চাষিদের মাঝে তরমুজ চাষের আগ্রহ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নায্য মূল্য না পাওয়ায় ধান চাষে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদেরকে। অপরদিকে অল্প খরচে বেশী ফলনে তরমুজ চাষে অধিক লাভবান হওয়া যাচ্ছে। তাই কৃষকদের মাঝে এ আগ্রহ প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে। এবার সুবর্ণচরে তরমুজ চাষে কৃষকের পাশা-পাশি আগ্রহ বাড়ছে এলাকার বেকার যুবকদের মাঝেও। এ এলকার বেকার যুবকরা ২-৩ জন করে ভাগ হয়ে এবার নেমেছে তরমুজ চাষে। এলাকার যুবকরা তরমুজ চাষের মধ্য দিয়ে তাদের বেকারত্ব গুচতে আগ্রহী।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে পূর্ব চরবাটার হাবিবিয়া মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান কাজলকে পাওয়া যায় তরমুজ ক্ষেতে, বাড়তি লাভের আসায় আরো ২জন বেকার বন্ধুকে নিয়ে এবার এ ব্যবসায়ী তরমুজ চাষে নেমেছেন। তিনি সুবর্ণবার্তাকে জানান, এ বছর তিনি ধান চাষও করেছেন, ধানে এখন লাভের নিশ্চয়তা দেখছেন না তাই এবার তরমুজ চাষ করে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে লোকশান গুনতে চান।

তরমুজ চাষি চরক্লার্ক ইউনিয়নের রবিউল আলম ও লিটন জানান, ধানচাষে এখন আর লাভের নিশ্চয়তা নেই। জলবায়ু পরিবর্তণের কারণে দিন দিন কৃষিতে বিপদ-আপদ বাড়ছে, তাই তারা এ বছর মোট ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন তরমুজ চাষের ভরা মৌসুম। গাছ বাইতে শুরু করেছে। এ সময় রিং করে তরমুজের মাদায় সার-ওষুধ দেওয়া ও পরিচর্চা করার সময়। রোগ-বালাই, কিংবা শীলা-বৃষ্টির মতো বৈরী আবহাওয়া না হলে তরমুজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

তরমুজ চাষের প্রথম শর্ত হল কৃষি উপযোগি পানি। মিষ্টি পানির পুকুুর বা খাল নিকটবর্তী নির্বাচিত জমিতে ছোট ছোট মাদা তৈরি করা হয়। প্রতি দুই থেকে আড়াই হাত পর পর এবং প্রতি সারির দূরত্ব একই এবং প্রতিটা গর্তে ৩/৪টি বীজ রোপণ করতে হয়, যাতে করে প্রতিটা গর্তে যেন অন্তত একটি চারা গজায়। অনেকে বীজ বপনের পূর্বে মাটির পাত্রে ওম দিয়ে বীজ অঙ্কুরোদগম (কোলা) করে। বীজ বপন পরবর্তী প্রথম দু’তিন দিন পরপর চারায় পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। এরপর চারা যখন ২/৩ ফুট হয় তখন সমস্ত জমিনে খড়/নাড়া বিছিয়ে দিতে হয়, যাতে করে ফলটি নাড়ার ওপর থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। স্থানীয় তরমুজ চাষী কৃষক জামাল উদ্দিন ও মাহমুদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, সাধারণত জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ) মাসে তরমুজের বীজ বপন করতে হয়। শীত থাকার কারণে বীজ ভালো কোলা (অঙ্কুরোদগম) হয় না। তাই আমরা মাজায় করে বীজ বেঁধে রাখি, শরীরের তাপের সাথে বীজ রেখে বীজের কোলা (অঙ্কুরোদগম) করি।

প্রতি ১০০গ্রাম তরমুজের বিজের দাম কিছুদির পূর্বে ১৬০০/- পর্যন্ত ছিলো। বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় প্রতি ১০০ গ্রাম বিজের দাম ৩০০০ থেকে ৩২০০/- পর্যন্ত মূল্য নির্ধারন করেছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকজন কৃষক।

চরবাটা ইউনিয়নের মোহাম্মদ মুছা মিঞা জানান, পাশের উপজেলা হাতিয়া থেকে এসেও কয়েক চাষি তরমুজ চাষ করছেন। এর কারণ জানতে চাইলে ওই উপজেলার বয়ার চর আল-আমিন গ্রামের আরিফুল ইসলাম জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, হাতিয়ায় অতিজোয়ার আর লবন পানির হানার কারণে ও একই জমিতে বারবার কীটনাশক আর সার-ওষুধ ব্যাবহারে ওই এলাকার জমিতে আগের মতো এখন আর তরমুজের ভাল ফলন মেলে না। তাই তিনি তার ১০/১২ বছরের অভিজ্ঞতা খাটিয়ে এ বছর চরবাটার চরমজিদে প্রায় ৫ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচরের বিভিন্ন চরে এ বছর প্রায় ৯০ হেক্টরে তরমুজ চাষ হয়েছে।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।

বোরো আবাদ বৃদ্ধি আর জমিতে পানি থাকার কারণে তা শুকাতে বিলম্ব হওয়ায় লক্ষমাত্রা কমেছে। তবে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে এই লক্ষমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে তরমুজের আবাদ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা বলেন, তরমুজ চাষিদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। চাষিদের কোন রকমের সমস্যার কথা শুনলেই অফিসের লোকজন মাঠে ছুটে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশা করি চাষিরা এবার তরমুজের বাম্পার ফলন পাবেন।

এআর

Facebook Comments