Home আমাদের উপকূল সুবর্ণচরে কৃষককে মারধর,বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ থানায় জিডি

সুবর্ণচরে কৃষককে মারধর,বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ থানায় জিডি

90
SHARE

আব্দুল বারী বাবলু, সুবর্ণচর : নোয়াখালীর সুবর্নচরে পানি সেচকে কেন্দ্র করে মো: দিদার (২৬) নামে এক কৃষককে বেদড়ক মারধর করা ও তার বসত ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বনদস্যু লিটন মাঝি সহ ৫জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় চরজব্বর থানায় জিডি দায়ের করা হয়েছে।

পয়েলা মে উপজেলার ৩ নং চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিন চরক্লার্ক গ্রামের আব্দুল হক সমাজের মিরাজের বাপের দোকান নামক বাজারের শামছুর দোকানে রাত সাড়ে নয়টায় মারধর ও রাত ১১টায় ছানা উল্যার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আহত দিদার একই গ্রামের কৃষক ছানা উল্যার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানী শামছু ও স্থানীয়রা জানায়, একই গ্রামের তাজুল হক এর ছেলে লিটন মাঝির(২৭) এর নেতৃত্বে (এক সময়ের বনদস্যু কমান্ডার) ৪/৫ জন প্রকাশ্যে দোকানের মধ্যে কৃষক দিদার কে মারধর করে। তারা জানায় অভিযুক্ত লিটন মাঝি জোর করে ঘটনার পূর্বে ছানা উল্যার পুকুর থেকে পানি সেচ দিতে চাইলে দিদার বাধা দিলে লিটন তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পানি না দেওয়ার জের ধরে ঘটনার দিন রাত সাড়ে নয়টায় মিরাজের বাপের দোকান নামক বাজারে শামছুর চায়ের দোকানে দিদারকে অর্তিকিত ভাবে হামলা করে ভেদড়ক মারধর করে এবং দোকানে বেধে রাখে।

থানায় অভিযোগকারী আনোয়ারা বেগম জানান, লিটন মাঝি একসময় বনদস্যু ছিল তাই তার ভয়ে কেউ দিদারকে উদ্ধার করেনি। পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো: সাহাব উদ্দিন কে জানালে তিনি চৌকিদার আব্দুর রহিমকে পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দিদারকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করান। ধারধরের দেড় ঘন্টা পরে রাত সাড়ে ১১টায় লিটন মাঝি প্রকাশ্যে তার লোক জন নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করলে আমাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো: সাহাব উদ্দিন জানায় , দিদার কে মারধর করে আটকে রাখার খবর পেয়ে আমার ওয়ার্ডের চৌকিদার আব্দুর রহিমকে পাঠিয়ে দিদার কে উদ্ধার করি এবং প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা করাই। দিদার কে উদ্ধারের প্রায় দেড় ঘন্টা পরে দিদারের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করার খবর পেয়েছি। বসতঘরে আগুন দেওয়ায় দিদার তার পরিবার নিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি জানান,এঘটনা বিগত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ মিমাংশা করা চেষ্ট করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। স্থানীয় ভাবে কোন মিমাংশা না হওয়ায় দিদারের মা আনোয়রা বেগম বাদী হয়ে স্থানীয় চরজব্বর থানায় লিটন মাঝিকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিটন মাঝির সাথে মুঠোফেনে যোগাযোগ করা হলে সে দিদারকে মারধরের ঘটনা স্বীকার করে অগ্নিসংযোগের কথা অস্বীকার করে প্রতিবেদককে সংবাদ না করার অনুরোধ জানায়।

চরক্লার্ক ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল বাশার জানান, ঘটনাটি সত্য, আমার স্থানীয় ভাবে ঘটনাটি মিমাংশা করার চেষ্টা করছি। উভয় পক্ষকে পরিষদে আসতে বলেছি এখন পর্যন্ত লিটন মাঝি ও তার লোকজন আসেনি।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here