Home আমাদের উপকূল সুবর্ণচরে অনাবাদি ভূমিতে সর্জন পদ্ধতি

সুবর্ণচরে অনাবাদি ভূমিতে সর্জন পদ্ধতি

111
SHARE

আব্দুল বারী বাবলু, সুবর্ণচর (নোয়খালী) সংবাদদাতা : সুবর্ণচর উপজেলায় এক সময় হাজার হাজার হেক্টর ভূমি অনাবাদী পড়ে থাকতো বন্যা, ক্ষরা, লবনাক্ততা, জলবদ্ধতার কারনে। স্থানীয় কৃষকরা এ অবস্থাকে জয় করেছে “সর্জন ”পদ্ধতিতে চাষ করে। এ পদ্ধতিতে  সারা বছর জুড়ে মাছ ও সবজি এক সঙ্গে চাষ করে লাভবান হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষক। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সুবর্ণচর উপকূলীয় উপজেলা হওয়ায় এখানকার প্রায় ভুমি লবনাক্ত। মেঘনা নদী কাছাকাছি থাকায় জোঁয়ার, বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতায় হাজার একর ভুমি অনাবাদী পড়ে থাকতো। ফলে কৃষদের ভূুমি থাকলেও তারা ফসল থেকে  বঞ্চিত হতো। সরেজমিন উপজেলার  কামাল উদ্দিন, আলা উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, আজহার উদ্দিন, মাঈন উদ্দিন ‘সর্জন’ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথমে ৩ একর অনাবাদী ভুমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। প্রথম পর্যায়ে তারা সফল না হলেও দ্বিতীয় দপায় তার সফলতা অর্জন করেন। তাদের সফলতা দেখে এখন শত শত কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন। এখন এ উপজেলায় কমে গেছে অনাবাদী ভুমি, বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ। এ পদ্ধতিতে সবজি ও মাছ  উভয় এক সঙ্গে সারা বছর চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। সর্জন পদ্ধতিতে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে  কৃষকরা জানান, প্রথমে ভুমি থেকে  মাটি কেটে উচু করে আড়া বাঁধা হয়। আড়ার ফাঁকে নালা তৈরি করা হয়।পরবর্তীতে আড়ার উপর বরবটি, শশা, করলা, লাউ, কুমড়া, ঝিঙগা, পটল, শিম পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। আর নালাতে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করা হয়। পদ্ধতির ফলে বর্ষা মৌসুমে পানিতে আড়া ডুবাতে পারেনা অপর দিকে শুষ্ক মৌসুমে নালায় থাকা পানি সবজি চাষে ব্যবহৃত হয়।

এ পদ্ধতি তে চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষক, কমছে অনাবাদী ভুমি। কৃষক সমিতির সভাপতি  আলা উদ্দিন জানান, ২০০৮ সালে তারা ভোলা জেলায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে দেখেন। সেখানে দেখে তারা এ অঞ্চলে শুরু করে। বর্তমানে শত শত কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (সিডিএসপি-৪ প্রকল্প) মাঠ কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম জানান, সর্জন পদ্ধতি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার একজন ব্যক্তির নাম তিনি প্রথম তার দেশে এ পদ্ধতিতে চাষ শরু করে সফল হন,  তাই তার নামানুসারে এ চাষ পদ্ধতির নাম হয় সর্জন পদ্ধতি। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। উপজেলার পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর, চৌব্বিশদাগ সমাজ, চরর্ক্লাক ইউনিয়নের রসুলপুর, ছনখোলা, সায়েদপুর, আলীমপুর, আল আমিন সমাজ, সোলেমান বাজার, সয়ারভিটা, দুইদাগ সমাজ, ইসলামপুর সমাজ সহ প্রায় ২ হাজার হেক্টর ভূমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে। এ  অঞ্চলের সবজির চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সবজি রপ্তানি করছে কৃষক।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here