Home আমাদের উপকূল সুবর্ণচরের জন্ম ও পর্যটন সম্ভাবনা

সুবর্ণচরের জন্ম ও পর্যটন সম্ভাবনা

226

আব্দুল বারী বাবলু : যুগ যুগ ধরে আগ্রাসী মেঘনার বুক চিরে প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে জেগে উঠা জনপদের নাম সুবর্ণচর। এখানকার প্রকৃতি ও জীবন মিলে মিশে সৃষ্টি করেছে নিধারুন এক সৌন্দর্যময় সবুজের প্রতিচ্ছবি। এ অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক মেরুদন্ড হচ্ছে কৃষি। এখানে কৃষি ও প্রকৃতি যেন এক আবেদনময়ী নারীর মত ভালোবাসার আঁচল উড়িয়ে আহ্বান করছে আগামীর অনাগত সৌন্দর্য পিয়াসুদের।


সুবর্ণচর উপজেলা নোয়াখালী জেলার একটি উপকূলীয় উপজেলা। বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০০৫ সালোর ০২ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে উপজেলাটি জন্মলাভ করে। ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় সুর্বণচর। ইউনিয়ন সমূহ যথাক্রমে- চরজব্বার, চরবাটা, চরক্লার্ক, চরওয়াপদা, চরজুবলি, চরআমান উল্যাহ, পূর্ব চরবাটা ও মোহাম্মদ পুর ইউনিয়ন।

অবস্থান ও আয়তন: এ উপজেলার উত্তরে নোয়াখালী সদর ,কোম্পানীগঞ্জ, ও কবিরহাট উপজেলা, পূর্বে কোম্পানীগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলা, দক্ষিণে হাতিয়া এবং পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা। এটি প্রায় ২২০৩র্৮ ও ২২০৪র্৫ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১০২র্০ ও ৯০০৫র্৮ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। জেলা সদর হতে সুবর্ণচর উপজেলা সদরের দুরত্ব প্রায় ২২ কিঃ মিঃ। উপজেলার মোট আয়তন ৫৭৬.১৪ বর্গ কিঃ মিঃ। যার মধ্যে জরীপ বহির্ভূত চরাঞ্চল এলাকা ১৯৬.৫৩ বর্গ কিঃ মিঃ।

নবগঠিত ভূমিরূপের অপরূপ সৌন্দর্য রয়েছে এ উপজেলায়। যার রয়েছে বিস্তৃর্ন মেঘনার মোহনা । ২৫কিলোমিটার মেঘনা খাল, কাটাখালী খাল, সবুজ গালিছা বেচানো নতুন নতুন চরাঞ্চল। যেখানে আসে অসংখ্য জাতের অতিথি পাখি। উপজেলার মাঠে ময়দানে সাদা বক ,শালিক ,পানকৌটা,মাছরাঙ্গা, কোকিল, ঘুঘু, কোয়েল, ডাউক,টিয়া সহ নানান পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এ জনপথ। রয়েছে বনভূমিপূর্ণ বেষ্টিত বিশাল উপকূল।

সুবর্ণচর নামকরণ: নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণের চরাঞ্চলের নতুন ভূমি খুব উর্বর সৌন্দর্যমন্ডিত এবং সম্ভাবনাময়। এক সময় চরজব্বর, চরবাটা এবং চরক্লার্ক এ তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে সদর উপজেলার দক্ষিণের চরাঞ্চল গঠিত ছিল। সুশোভিত বৃক্ষরাজি, বনভূমি এবং রূপালী চর ও মৎস্য সম্পদের সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে এ অঞ্চলে। কৃষি-শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে, প্রকৃতিক সৌন্দয্য ,চার দিকে সুন্দর সুন্দর রাস্তাঘাট, রয়েছে সাদা বালি সমৃদ্ধ গ্রামীন মেটো পথ , সড়ক জুড়ে দু পাশে সবুজের সমারোহ, বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে সূর্যমূখীর হলুদের আভা।

রয়েছে সুন্দর সুন্দর খালবিল নদীনালা, পতিত ভূমিতে বেসরকারী উদ্যোগতাদের সাজানো ও দৃষ্টিনন্দন মৎস খামার। রয়েছে সারি সারি নারিকেল সুপারি ও পানের বাগান। ঘটেছে ব্যাপক শিক্ষার প্রসার। উন্নত হয়েছে জীবনযাত্রার মান। সৃষ্টি হয়েছে মানবিক মূল্যবোধের সবকিছু মিলিয়ে এ যেন এক অপরুপ সৌন্দয্যের প্রতিমুর্তি তাই এই বিবেচনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক এ উপজেলার নাম সুবর্ণচর (সুন্দর চর) নামে অভিহিত করেন।

সাম্প্রদায়িক: সুবর্ণচরে রয়েছে সর্বকালের সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি। এ অঞ্চলের সকল ধর্মের মানুষ এক সাথে মিলে মিশে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। এখানে প্রধানত দুই সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। এখানকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মুসলমান এবং অবশিষ্টরা হিন্দু ও অন্য সম্প্রদায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা: সুবর্ণচর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত। প্রায় সড়ক গুলো পাকা ও সরল রেখার মত। উপজেলার সাথে জেলা সদরের পাকা সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। একই পথে রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান। এ উপজেলায় ভেতরে ও বাইরে যাতায়তের জন্য বাস, মিনিবাস, সিএনজি, অটোরিক্সা মটর সাইকেল সহ সব ধরণের যান চলাচল করে।

মাটির বৈশিষ্ট্যাবলী: উপকূলীয় চরাঞ্চল বলে এ অঞ্চলের মাটি নরম এবং নোনা। তবে কিছু কিছু স্থানের মাটি বেশ উর্বর। মাটির বর্ণ বাদামী/ গাঢ় বাদামী ছিকযুক্ত ধূসর/ ফিকে বাদামী। মাটির বুনট প্রধানত: দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ।

পানি সম্পদ: ভূপৃষ্ঠস্থ পানির প্রধান উৎস হচ্ছে নদী, খাল, ডোবা, পুকুর ইত্যাদি। এ উপজেলার চাষাবাদ বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করে। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে উপজেলার উত্তর পূর্বাংশ কিছুটা নিচুবলে পানি কোনো দিকে অপসারিত হতে পারে না। যার ফলে প্রচুর বৃষ্টিরতে পানি জমে থাকে, যা দ্বারা রবি মৌসুমে বোরো ধানের চাষ করা হয়। উপজেলাটি উপকূলীয় এলাকায় হওয়ার কারণে পানিতে লবণাক্ত স্বাদ পাওয়া যায়। তাছাড়া আয়রণের উপস্থিতি রয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে গভীর নলকূপে কোন আর্সেনিক নেই।

নিজস্ব সংস্কৃতি: সুবর্ণচর উপজেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত লোকজ সঙ্গীত লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর একান্ত চেষ্টায় উপজেলা শিল্পকলায় নিয়মিত চলে সংস্কৃতির লালন। উপকূলীয় এলাকার মাঝিমাল্লাদের নিজস্ব ঢংয়ের কিছু গানের চর্চা আদিকাল হতে চলে এসেছে। প্রতিটি ২১শে ফ্রেব্রুয়ারীতে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। শীতের আমেজে মিলে পিঠা উৎসববের মিলন মেলা। তাছাড়া কৃষক ও রাখালদের মুখে স্থানীয় জারি গানের বিভিন্ন পংক্তিমালা শুনা যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানাদিতে এক প্রকারের গ্রামীণ গীত প্রচলিত আছে।

শিক্ষাব্যবস্থা: নবগঠিত এলাকা হিসেবে সুবর্ণচর উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা অনেক উন্নত বলা চলে। উপজেলায় ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র, ১৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর মধ্যে ২টি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, উপজেলা ৪টি বেসরকারী কলেজ,১টি দাখিল, ১টি আলিম এবং একটি ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে। ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে চালু আছে “মিড ডে মিল”। কলেজ ও মাধ্যমিক পর্যায়ে চালু আছে সততার দোকান। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় আছে স্কাউটিং। নিয়মিত চলে সাংস্কৃতিক চর্চা, মেধামূলক প্রতিযোগিতা।

চিকিৎসা সেবা: চিকিৎসা সেবার দিক থেকে সুবর্ণচরবাসী অনেক বেশি পিছিয়ে ছিল এখন অনেক দূর এগিয়েছে। ১৯৭৩ সালে চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য ৩১ শয্যাবিশিষ্ট চরজব্বর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে যা এখন ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে শয্যার উন্নয়ন ঘটেছে।

প্রান্তিক অর্থনীতি: সুবর্ণচর উপজেলার মাটি পলিবেষ্টিত হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষিভূমি খুবই উর্বর। এলাকার প্রধান ফসল ধান, মরিচ, সয়াবিন, ঢেড়স, চীনাবাদাম, তরমুজ,সূর্যমূখী, গম, শাক-সব্জি ও বিভিন্ন রকমের ডাল জাতীয় ফসল। তাছাড়া প্রচুর কলা, নারকেল, পেঁপে, টমেটো, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, খিরা, লাউ, ঢেঁড়শ, বেগুন, শসা, মূলা, গাজরসহ সুপারি ও আম কাঁঠাল উৎপন্ন হয়।

উপকূলবর্তী অঞ্চলে কাঁকড়া ও চিংড়িসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষের জন্য ফিসারিজ শিল্প গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে চালকল, তেলকল, আটাকল, বরফকল, ফিলিং স্টেশন, কৃষি পরমানু গবেষণা কেন্দ্র, ইক্ষু গবেষনা কেন্দ্র, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, পুষ্টি গবেষণা কেন্দ্র, বেসরকারী উদ্যোগে মাছের পোনা ও খাদ্য এবং পল্ট্রি বাচ্চা ও খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।এখানকার রপ্তানিযোগ্য দ্রব্যাদি হলো নারকেল, সুপারি, সবজি, শুটকি, কাঁকড়া, চিংডি, বিভিন্ন জাতের মাছ, ও মহিষের দুধ ও দধি। ইতোমধ্যো সুবর্ণচরের দধি নোয়াখালীর ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলে গরু, মহিষ ও ভেড়ার বাথান সহজে লক্ষনীয়।

কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় অঞ্চল: সুবর্ণচর উপজেলার ৮০ভাগ মানুষ কৃষক। চরাঞ্চলের ফসলাদী উৎপাদন এখানকার কৃষির বড় উপজীবা। মোট ভূমির পরিমান ৬৪৪৪৩ হেক্টর (জরিপ বহির্ভুত এলাকা ব্যতিত), আবাদী ভূমি ৩৯৫০০ হেক্টর, উঁচু জমি ১১২৫ হেক্টর, মাঝারি জমি ২১২১১ হেক্টর, মাঝারি নীচু ভূমি ১১২৩৬ হেক্টর এবং নীচু ভূমি ১৫৫ হেক্টর।

উল্যেখযোগ্য স্থান ও স্থাপনা: মেঘনার শাখা নদীর তীরে মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা চরবাটা স্টিমারঘাট সংলগ্ন ২৫ কিঃমিঃ মেঘনা লেক ও চেয়ারম্যান ঘাট, কাটাখালী ঘাট, সাবাব ঘাট, গোয়ালখালীঘাট, টাংকির ঘাট, তেগাচিয়া ঘাট, গ্লোব এগ্রোফিশারিজ এন্ড হেচারী, তানিশা ফিশারী, জিয়ারচর, বিএডিসি,বিনা, পুষ্টি গবেষনা, সামাজিক বনায়ন। প্রতি শীত মৌসুমে বনভোজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে দর্শনার্থীরা ছুটে আসে বিনোদনের আশায়। এছাড়াও উপজেলার বিস্তীর্ন চরাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বনভূমির বেষ্টনী সহজে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ: দেশের উপকলীয় ১৭টি জেলার মধ্যে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলা মেঘনা তীরবর্তী উপকূলীয় একটি উপজেলা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে এ উপজেলা প্রাকৃতিক দূর্যোগ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে। বিগত দিনে ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৮৮ ১৯৯১ এবং ১৯৯৮ সালে সুবর্ণচর উপজেলা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আক্রান্ত হয়। বিশেষত ১৯৭০ এর ঘুর্নিঝড়ে এবং ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ। নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে প্রায় ৮০ হাজারের বেশি পরিবারের ২ লক্ষাধিক মানুষ।

নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী এসকল পরিবার সরাসরি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় এসকল চরাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে রেড ক্রিসেন্ট ও রেডক্রস সেচ্চাসেবক দল এক সাথে কাজ করে।

জলবায়ু অভিঘাত ও ঝুঁকি: বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তণজণিত ক্ষতিতে যে কয়টি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। একাধারে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তণ, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগের মাত্রাও আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মন ওয়াচ-এর ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তণজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ ১০টি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি এলাকা সুবর্ণচর।

দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী: সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে নোয়াখালী উপকূলের মানুষের জানমাল রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৭-৬৮ অর্থবছর থেকে শুর হয়েছিল সমুদ্র বক্ষে বিশেষ করে নদী মোহনায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার একর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন। নোয়াখালী উপকূলে তৈরি হয় সবুজ দেয়াল। বিভিন্ন সময় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ৩৫ হাজার একর বন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

অবশিষ্ট বনভূমির মধ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি বন পরবর্তীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা বনদস্যু ও ভূমিগ্রাসীদের কবলে পড়ে উজাড় হয়ে যায়। বর্তমানে সুবর্ণচরে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল নেই বললেই চলে। ৯০ দশকের শুরতে এই অরণ্যের গাছ কাটা শুর হয়ে প্রায় সম্পূর্ণ বনভূমি বিরান হয়ে যায় ২০০৫সালের মধ্যে।

কথিত গড়ফাদারদের দৌরাত্ম্যে স্বযত্নে লালিত বনদস্যুরা বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল উজাড় করে স্থানীয় জোতদার এবং শহরের বিত্তশালী ব্যক্তিত্বদের নিকট বিক্রি করে। প্রাকৃতিক প্রতিরোধের জন্য তৈরিকৃত বনভূমি আজ লোভের কাছে পরাজিত। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দূর্যোগ, তথা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে বাধাহীনভাবে আক্রান্ত হবে সুবর্ণচরবাসী, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তাই সম্ভাব্য ক্ষতির তীব্রতা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত বনায়ন সৃষ্টিতে আমাদের ব্যাপক ভূমিকা থাকা উচিত।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আবু ওয়াদুদ জানান, অনেক সংগ্রাম করে এ অঞ্চলের মানুষ আজ একটি সুন্দর ও শান্তিপ্রিয় জনপদে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ জনপদে ইতিমধ্যে মাননীয় সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সুবর্ণচরে পর্যটন বিষয়ে একটি চাহিদা পত্র দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজন এসে সম্ভাব্য স্থান সমূহ পরির্দশন করে গেছেন। একটি নদীমাতৃক অপার সম্ভাবনাময়ী উপকূলীয় প্রান্তিক জনপদ যেখানে প্রাকৃতিক নানান সৌন্দর্য স্থান রয়েছে।

Facebook Comments