Home স্বাস্থ কথা সাবধান : মরণব্যাধি রোগের লক্ষণ মুখের ঘা

সাবধান : মরণব্যাধি রোগের লক্ষণ মুখের ঘা

213
Caution: The symptoms of mortality diseases are facial lesions

বয়স্ক-বড়-ছোট সবারই কোন না কোন সময়ে মুখের ভেতর ঘা হয়ে থাকে। আমরা এই মুখের ঘাকে কখনও হয়তো বড় করে দেখিনা। চিন্তাকরি ছোট-খাট ঘা হয়েছে, এটা তেমন কিছু না। এমনিতেই সেরে উঠবে। কিন্তু আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না সাধারণ এই মুখের ঘা-ই ডেকে আনতে পারে মরণব্যাধি রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, এই মুখের ঘা-ই প্রায় ২০০ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে সীকৃত।

এই ঘা সাধারনত আমাদের মুখের ভেতরের মাংসে বা জিহ্বায় হয়, ব্যথা করতে থাকে, কিছু খেতে গেলে জ্বলে যাওয়ার মানে হচ্ছে মুখে ঘা এর প্রাথমিক লক্ষণ। তবে এসবের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মুখ ফুলে যায় আবার পুঁজ বের হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

Caution: The symptoms of mortality diseases are facial lesions

সাধারণত ঘা, মুখে গালের ভেতরের অংশে বা জিভে হয় কোনও ভাবে কেটে গেলে। আবার শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলেও এ সমস্যা দেখা দেয় অনেকের। খুব গরম পানীয় পান করলে বা কিছু চিবানোর সময় গালের ভেতরে কামড় লাগলেও ঘা হতে পারে। এইসব অতি সাধারণ কারণ ছাড়াও মুখের ঘা নানা মরণব্যাধির কারণে হতে পারে।

যাদের ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং দীর্ঘদিন ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের মুখেও এক ধরনের জীবাণু বাড়তে থাকে।
গবেষণায় দেখা যায় যে, যাদের ধূমপান এবং জর্দা দিয়ে পান ইত্যাদি খাওয়ার বদ অভ্যাস রয়েছে তাদের মধ্যে মুখের ঘা খুব বেশি হয় এবং সেই সঙ্গে মুখে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।

বিশেষত যারা পানের সঙ্গে জর্দা খান এবং অনেকবার পান খান তাদের মুখের ঘা বেশি থাকে। সাধারণ ক্ষেত্রে আয়রন বা ভিটামিন বি-১২’র অভাবেই এ সমস্যা বেশি হয়। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত আপনার স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া খুব জরুরি। এর মধ্যে ফল, শাকসবজি, দুধ, মাছ এবং মাংস (চর্বি ছাড়া) । এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণ জিঙ্ক, ভিটামিন ও আয়রন থাকায় মুখের ঘা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়ও নিয়মিত মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের অভ্যাস করুন।

Caution: The symptoms of mortality diseases are facial lesions

সব চাইতে জরুরী বিষয় হল চিকিৎসার পরও মুখের ঘা যদি দু’সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বায়োপসি বা মাংসের টিস্যু পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কারণ মুখের বেশ কিছু ঘা বা সাদা ক্ষতকে বিজ্ঞানীরা প্রি-ক্যান্সার লিশন বা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থার ক্ষত বলে থাকেন। মুখের ঘা প্রতিরোধে দাঁত ও মুখের যত্ন নেবেন এবং মুখের ভিতরের অংশে ঘা হওয়া মাত্রই চিকিৎসার ব্যবস্থা নিন।

Facebook Comments