Home ইসলামিক শিয়ালের কাছে মুরগি বাগা!

শিয়ালের কাছে মুরগি বাগা!

217

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর যুগে কিছু মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে শুধু নামেমাত্র। কিন্তু অন্তর থেকে তারা ছিল কাফির। তারা নামাজের সময় বগলের নিচে পাথর নিয়ে নামাজ শুরু করত। পরবর্তীতে নামাজ
শুরু হয়ে যাওয়ার পর তারা মুসলমানদের উপর পাথর নিক্ষেপ করতো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করা। সম্প্রতি সৌদি আরবে হজ্জ্বের মাসে কনসার্ট করার জন্য আমেরিকার সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী গায়িকা নিকি মিনাজকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন সৌদি আরাবিয়ার শাসক কি মুসলমান নয়? হ্যাঁ আমি বলব নামে মাত্র। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে যদি মোহাম্মদ বিন সালমান রাষ্ট্রীয়ভাবে জড়িত থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই আপনারা আমার যুক্তির সাথে একমত হবেন।

এধরনের কাজগুলোর উদ্দেশ্য শুধু ইসলাম ও মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন তার নাম ছিল কুরাইশ। কিন্তু তাদের মধ্যে দুটি গোত্র ছিল একটি ছিল হাশেমী একটি ছিল উমাইয়া। মহানবী ছিলেন হাশেমী গোত্রের। মক্কা বিজয়ের পরে হাশেমীরা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং সাথে সাথে উমাইয়া গোত্রের যারা ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিলেন তারাও ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দুটি গোত্রের মাঝে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছিল অনেক প্রতিযোগিতা। এক্ষেত্রে কিছু কিছু মানুষের মাঝে ধর্মের চেয়ে গোত্রের আধিপত্য ছিল প্রাধান্য। হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ছিলেন উমাইয়া গোত্রের। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করার পরে হাশিম গোত্রের হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইসলামের চতুর্থ খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন। এদিকে দামেস্কে নিযুক্ত উমাইয়া গভর্নর মুয়াবিয়া ঘোষণা করলেন উসমান হত্যার বিচার না হলে তিনি আলীকে খলিফা হিসেবে মানবেন না। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু মুয়াবিয়াকে বরখাস্ত করলেন। কিন্তু ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদ সেদিন কারবালার প্রান্তরে হাশেমি গোত্রের হযরত হাসান হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করেছিলেন শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য আর গোত্রের জন্য।

এখান থেকে আমরা দেখতে পাই মুসলমান নাম হলেই প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায় না। আপনি দেখেন সৌদি আরাবিয়ান রাজতন্ত্রের মধ্যে প্রকৃত ইসলাম আছে কিনা নাকি ক্ষমতার আধিপত্য? ক্ষমতার অন্তরালে নিজেদের স্বার্থকে আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য তারা মুসলমান ও ইসলামের ক্ষতি করতেও দ্বিধা বোধ করে না। ইহুদি ও খ্রিস্টান প্রভুদের খুশি করার জন্য তারা কথিত সংস্কারের নামে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যার কারনে সারা বিশ্বে সন্ত্রাস, যুদ্ধ, হিংসা, খুন ও ধর্ষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশও দূরে নয়। ইসলাম হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। এই পৃথিবীর মানুষের কোন কোন কাজ মঙ্গল কোন কাজ অমঙ্গল,ভালো-মন্দ সবকিছু সম্পর্কে পবিত্র কোরআন এবং আমাদের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম তার জীবন ব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষের জন্য উদাহরণ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। এর বাহিরে যেকোনো কিছু, কোন মানুষের মতবাদ, কোন মানুষের নিজস্ব ধারণা অবশ্যই পৃথিবীর মানব সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিবে। ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামকে এবং বিশ্বের শেষ নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে জগৎ বিখ্যাত হয়েছেন। কেন আমরা কি আবু বক্কর, উমর, উসমান, আলী(রা) এর কথা জানিনা? শুধু মুসলমান হিসাবেই নয় শাসক হিসাবে পৃথিবীর মধ্যে একজন শাসককে কি তাদের সামনে দাঁড় করাতে পারবো? নিশ্চয়ই না। তাহলে আমরা কেন বিকল্প মতবাদ আর কিছু জ্ঞানপাপীদের কথা মেনে চলবো?

এবার আসি মূল আলোচনায়: আমরা জানি বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করার মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশে তাদের ব্যবসা এবং শাসন কাজ শুরু করেছিল। নবাবের মন্ত্রিসভা এবং প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী সেদিন ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেছিল। ক্ষমতার জন্য এবং ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের জন্য বাংলায় প্রায় ২০০ বছরের মতো অন্ধকার নেমে এসেছিল। ইতিহাস লেখা হয়েছে কিন্তু কেউ ভালো হয়ে চিরকাল আবার কেহ খারাপ হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। ব্রিটিশরা এদেশের হিন্দু এবং মুসলমানদেরকে নানাভাবে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলায় নেমে এসেছিল এক অন্ধকার যুগ। তারা হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা লাগিয়ে দিল। অনেক মানুষ মরে গেল। খাজনা আদায়ের নামে বাংলা ১১৭৬ সালে বিশ্বের ইতিহাসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হলো। তখন এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গিয়েছিল। একটি সময় এসে তারা বুঝতে পারল এদেশে তারা বেশিদিন থাকতে পারবে না। তারা বহু মানুষকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে না পেরে জাহাজে করে গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছিল। শারীরিক,মানসিক,হত্যা, শাসন ও শোষণ সবকিছু করে তারা যখন দেখল জাতি হার মানার জাতি নয়। তখন তারা ভিন্ন পলিসি অবলম্বন করল। এদেশের শিক্ষা,আইন এবং সংস্কৃতি। হোয়াট এ গেম ইজ! কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করল ১৮৮১ সালে। ব্রিটিশ স্টাইলে শিক্ষিত সমাজ তৈরি করল আর তাদের মাথায় ব্রিটিশ আইন বই এবং বিভিন্ন জায়গায় হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট বানিয়ে তাদের পছন্দ করা লোকদেরকে বসিয়ে দিল। শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি সংস্কৃতিতে বিশাল পরিবর্তন আনল। বিভিন্ন জায়গায় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করল এবং তাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছেলে মেয়ে যেভাবে একসাথে পড়ালেখা করে এই উপমহাদেশে একই ব্যবস্থা চালু করল। পাঠ্যপুস্তকে তাদের সংস্কৃতি তাদের আইন এবং ইসলাম ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত করে দিল। আর বোকা জাতি শত শত বছর বোকাই রয়ে গেল।

ব্রিটিশরা যখন দেখল মুসলমান জাতির ধর্ম সংস্কৃতি ধ্বংস করার কাজে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ঠিক তখনই তারা ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করল। বীজ বপন করলো গাছ বড় হয়ে ফল দিচ্ছে। এখন আমাদের দেশে বড় বড় জ্ঞানী লোকের অভাব নেই। অনেক কথা অনেক ভাবেই বলেন কিন্তু আমি বলব যাদের ভিতরে পবিত্র কোরআন ও মহানবীর জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান নেই তারা জ্ঞানপাপী এবং তাদের দ্বারা ইসলাম ও মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটাই স্বাভাবিক।

কিছুদিন আগে আল্লামা শফী সাহেবের একটি লেখা পড়ে মনের মাঝে দাগ কেটে গেল। তাই কিছু একটা লিখবো বলে পরিকল্পনা করেছিলাম। শফি সাহেবের কাছে আমার এ লেখাটি হয়তো পৌঁছাবে না কিন্তু আমার বন্ধু মহলের কিছু মানুষ যদি আমার এ লেখা থেকে কিছু উপলব্ধি করতে পারেন তাহলে হয়তো আমার কষ্ট সার্থক হবে। আট বছর ইউরোপে পড়ালেখা করেছি। তাদের সংস্কৃতি, তাদের শিক্ষা এবং সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত। আজ সারা পৃথিবী এক এবং অভিন্ন লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে শুধু মুসলমান ও ইসলামকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য। কারন তারা বুঝতে পেরেছে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছর পরে পৃথিবীর জনসংখ্যার মধ্যে মুসলমানদের স্থান হবে প্রথম। এবার আসি সহশিক্ষার ব্যাপারে আল্লামা শফী সাহেবের বক্তব্য সম্পর্কে। চট্টগ্রামের একটি বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন মেয়েদের যদি শিক্ষা গ্রহণের মধ্যে ইজ্জতের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে তাদেরকে পড়ালেখা বন্ধ করে দেন। কিছু জ্ঞানপাপী উনার কথার গভীরতা কে উপলব্ধি করতে না পেরে নানা সমালোচনা করেছেন। একটি মেয়ে স্কুলে মাদ্রাসায় যাবে আর সমাজ এবং রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা দিতে পারবে না তাহলে ওই মেয়েটি কি রাস্তায় রাস্তায় ইজ্জত বিসর্জন দিবে? নাকি ইজ্জত সংরক্ষণের জন্য বাসায় অবস্থান করবে? ব্রিটিশদের চালু করা সহশিক্ষা অর্থাৎ ছেলে মেয়ে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে পড়ালেখা করবে। জ্ঞানপাপীরা তো তাদের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন কারণ তারা তাদের শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে অশ্লীলতা ও নোংরামিতে লিপ্ত। শিয়ালের কাছে মুরগি যেরকম নিরাপদ নয় তেমনি ভাবে তাদের কাছ থেকে আমাদের বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। সহশিক্ষার ব্যাপারে যখন কথা বলা হয় তখন তারা এর কোন কুফল নেই বলে বক্তব্য দেন। একটি উদাহরণ দেবো-নোয়াখালীতে শুটকি মাছের সামনে একটি বিড়ালকে রেখে আমি যদি গাজীপুর থেকে বিড়ালকে বলি, এই বিড়াল যদি এই শুটকি মাছে মুখ দিস তাহলে আমি তোকে ফাঁসি দেব। কি ভাই, বিড়াল কি শুনবে? আজ বাংলাদেশে সামাজিক অস্থিরতা, খুন, মাদক, শিশু ধর্ষণ, স্কুল-কলেজে পড়ালেখার নামে শিক্ষক-ছাত্রী ও ছাত্র-ছাত্রীদের নোংরামিও অশ্লীলতা একমাত্র সহশিক্ষার কুফল। এমনিতেই সহশিক্ষা ইসলাম ধর্মের আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। তাই এ শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সৃষ্ট কুফল ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে রুগ্ন করে ফেলবে। আল্লামা শফী সাহেব আরো একটি বক্তৃতায় বলেছেন, মেয়েদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে এবং যেখানে মেয়েরাই শিক্ষা দিবে। আবার ছেলেদের জন্য আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকবে যেখানে ছেলেরাই শিক্ষা দিবে। আমি উনার বক্তব্যকে বাস্তবতার আলোকে স্বাগত জানাই। আমার অনেক ভালো লেগেছে দেরিতে হলেও আমাদের দেশের আলেম সমাজ কথা বলতে শুরু করেছে। জানি, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে অনেক সমস্যা আছে। প্রথমত, জ্ঞানপাপীদের বিরোধিতা এবং দ্বিতীয়তঃ সরকারের অনিচ্ছা। আমি মনে করি শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার প্রকৃত চর্চার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে আসা সম্ভব। আমাদের এই স্বপ্ন হয়তো কোনদিন পূরণ হবে না তাই আল্লামা শফী সাহেব আমাদেরকে ক্ষমা করবেন।

লেখক ও গবেষক-
মুহাম্মদ ফেরদাউস আলম।
শিক্ষক( ইংরেজি মাধ্যম), মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে, গাজীপুর।

Facebook Comments