যে হিসাবে পার পাওয়ার সম্ভাবনা ব্রাজিলের

সুবর্ণক্রীড়াি ডেস্ক: ব্রাজিল-সার্বিয়া দুই দলের সামনে তিন সম্ভাবনাই খোলা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া, গ্রুপ রানার্স-আপ হওয়া এবং বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া। মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে আজ কী আগুনে লড়াই অপেক্ষা করে আছে, বুঝতে পারছেন!

অথচ এমন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল না ব্রাজিলের। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের মাঝপথে দায়িত্ব নেওয়ার পর আদেনর বাক্কি তিতের দল খেলেছে চোখধাঁধানো ফুটবল। সৌন্দর্যে, সাফল্যেও। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার ঝুঁকির মধ্যে থাকা দল অনায়সে সে চৌকাঠ ডিঙিয়েছে। স্বাগতিক রাশিয়াকে একপাশে সরিয়ে রাখলে সবচেয়ে আগে। তিতের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আসে ২১ ম্যাচে শুধু এক হারের রেকর্ড নিয়ে। এ সময়ে ৪৭ গোল দিয়ে খেয়েছে ৫ গোল।

এমন দুরন্ত ফর্মে থাকা দলটি কিনা বিশ্বকাপে পায়ের নিচে শক্ত মাটি খুঁজে পেতে গলদঘর্ম হচ্ছে ! সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম খেলায় তো জিততেই পারেনি। কোস্টারিকার বিপক্ষেও প্রথম ৯০ মিনিটে পায়নি গোল। ইনজুরি সময়ে ফিলিপে কৌতিনিয়ো ও নেইমারের গোলে রক্ষা শেষে। আজ তাই সার্বিয়ার বিপক্ষে অমন জটিল সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

‘ই’ গ্রুপের দুই খেলায় ৪ পয়েন্ট এখন ব্রাজিলের। সমান পয়েন্ট সুইজারল্যান্ডেরও। সার্বিয়ার পয়েন্ট ৩; প্রথম খেলায় কোস্টারিকাকে হারালেও পরেরটিতে সুইসদের কাছে হেরে যায় তারা। আজ ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউন্ড যাওয়া নিশ্চিত হবে তিতের দলের; সেটি গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে হলেও। সার্বিয়াকে হারাতে পারলে ব্রাজিলের পয়েন্ট হবে ৭। অন্য ম্যাচে কোস্টারিকাকে হারালে সুইজারল্যান্ডেরও তাই। পয়েন্ট, গোল পার্থক্য, গোল করা সব সমান হয়ে গেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত হবে ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড অনুযায়ী। এখানে ব্রাজিলের তিনটি হলুদ কার্ড, সুইজারল্যান্ডের চারটি।

আর যদি হেরে যায় ব্রাজিল? তাহলে তো সার্বিয়ার পয়েন্ট হয়ে যাবে ৬। অন্য ম্যাচে সুইসরা ড্র করলেও তাদের পয়েন্ট ৫। অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটতে পারে তখন। শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় আসা ব্রাজিল তখন বিদায় নেবে প্রথম রাউন্ড থেকেই।

স্বাধীন দেশ হিসেবে সার্বিয়ার বিপক্ষে একবারই খেলেছে ব্রাজিল। ২০১৪ সালের সেই ম্যাচে জয় সেলেসাওদের। আর যুগোস্লাভিয়াকে ধরলে এ দুই দলের মুখোমুখি সাকল্যে ১৯ বার। তাতে ব্রাজিলের ১০ জয়, সাত ড্র আর দুই হার। বিশ্বকাপে অবশ্য একেবারে সমতায়। একটি করে জয় দুই দলের; বাকি দুই ম্যাচ ড্র। ব্রাজিলের জন্য এই বিশ্বকাপ রেকর্ড যদি হয় শঙ্কার, তবে এর শেষ এখানেই নয়। ইউরোপিয়ান দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপে সর্বশেষ সাত ম্যাচে শুধু একটিতে জিতেছে ব্রাজিল। হেরেছে চার ম্যাচে; ড্র দুটিতে।

মাঠের ফুটবলে আজ অবশ্য এসবের গুর্রু সামান্য। বর্তমানেই তাই মনোযোগ দুই দলের। ব্রাজিলের দুশ্চিন্তা ঊর“র মাংসপেশির ইনজুরির কারণে দানিলো এবং হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দগলাস কস্তার ছিটকে যাওয়া। আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই তাই মাঠে নামার কথা; যদিও অনেকের ফর্ম কপালে ভাঁজ তুলছে তিতের। ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল জেসুস দুই ম্যাচে গোল না পেলেও তাঁর ওপরই হয়তো আ¯’া রাখবেন কোচ। বাজে ফর্মের পাউলিয়োও পা”েছন কোচের আস্থা।

কোস্টারিকার বিপক্ষে রাইট ব্যাকে খেলা ফাগনের ভরসা রাখছেন নিজেদের ওপর, ‘প্রতিপক্ষ আমাদের আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নামবে। তবে আমার মনে হয়, ম্যাচ যত সামনে এগোতে থাকবে, আমরা ততই সুযোগ তৈরি করতে পারব। সেটি হয় প্রফেসরের পরিকল্পনা অনুযায়ী অথবা নিজেদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে। আর প্রতি ম্যাচের জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেবে।’ সার্বিয়া কোচ ম্লাদেন ক্রাসতাইচ আশা করছেন অসম্ভবের, ‘ড্র হওয়ার পর থেকেই তো অনেকে ভেবেছে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ফেভারিট ব্রাজিল। এখন আমরা এমন অব¯’ায় এসে দাঁড়িয়েছি, যখন ওদের বিপক্ষে আমাদের জিততেই হবে।

সেটি করার জন্য যা প্রয়োজন সব করব আমরা। জীবনে অসম্ভব বলে আসলে কিছু নেই। ব্রাজিলের ফেভারিট মর্যাদায় আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে ওদের কিছু দুর্বলতাও খুঁজে পেয়েছি, যা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’ একই প্রতিধ্বনি মিডফিল্ডার সের্গেই মিলিঙ্কোভিচ-সাভিচের কথায়, ‘আমাদের মিরাকল প্রয়োজন। তাতেই আমরা ব্রাজিলকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারি। আমি সব সময় বলি, যারা মিরাকলে বিশ্বাস করে, তারাই শুধু তা ঘটাতে পারে। আমরা সার্বিয়ান, আমাদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই। ভাগ্যের কিছু সহায়তা নিয়ে আমরা অবশ্যই ব্রাজিলের বিপক্ষে মিরাকল ঘটাতে পারি। সুইজারল্যান্ড ও কোস্টারিকা দেখিয়েছে, ব্রাজিলের সঙ্গে লড়াই করা যায়। আমরাও তা বিশ্বাস করি। বিশ্বাস করি, ওদের আমরা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিতে পারব।’

আগের দিন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা; পরের দিন ব্রাজিলের। বিশ্বকাপ রংধনু থেকে আকাশি-সাদা আর হলুদ রং মুছে গেলে আকর্ষণের আর থাকেটা কী! সেই ভয় জয়ের চ্যালেঞ্জ আগের দিন ছিল হোর্হে সাম্পাওলির দলের; আজ তিতের শিষ্যদের। এই চ্যালেঞ্জে যে পা হড়কানোর সুযোগ নেই কোনো!

Facebook Comments
We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

error: Content is protected !!
subarnabarta
%d bloggers like this: