Home প্রান্তজনের কথা ‘না’কে না-বলি

‘না’কে না-বলি

189

মিজানুর রহমানঃ এটা করা যাবে না,ওটা ধরা যাবে না,সেইটা বলতে না বলছি না! না এর চাপে হ্যাঁ উধাও। আজকে জোহরের পর মসজিদ থেকে বেরুতে বেরুতে পড়ছিলাম, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন ছাড়া মসজিদের লাইট ফ্যানের সুইচ অন করবেন না।” অফ করতে পারবো? গরমে জ্বলে গেলেও অন্ধকারে ঢেকে গেলেও ইমাম মুয়াজ্জিন যদি সুলভ না হোন,তয় কী সুইচ অস্পৃশ্য থাকিবে?

বিধিনিষেধ এর চাপে আমরা ধর্ম পালনে বিব্রত হয়ে যাচ্ছি। অথচ কী সুন্দর নির্দেশনায় বলা হয়েছে,
“ইয়াসসিরু ও লা তুয়াসসিরু,বাশশিরু ও লা তুনাফফিরু।” সহজ কর।জটিল করিও না।সুসংবাদ দাও,ভীত সন্ত্রস্ত করিও না। হররোজ চাইছি, “ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম;সরল সহজ পথ দেখাও ইয়া রাব্বে কারীম।” তাহলে আজকে থেকে বেশি বেশি বলি, কী কী করবো, কী কী করা যাবে না,এই হুংকার দেব না।

শিশু কিশোর তরুণ চায় অবাধ স্বাধীনতা। তারা আসুক মসজিদে। মহফিলে।তারা শিখুক। জানুক।বুঝুক।ভুল করুক।শুদ্ধ করুক।হৈ চৈ করুক! শিশুদের আওয়াজে মসজিদে জীবন আসে…।এই লেখার এমন কোন পাঠক কী আছেন, যিনি মসজিদে হাসাহাসি করেন নি? নিজের করা কাজটি কেন এখন অন্যায় ভাবছেন? গতকাল তারাবিহ পড়ার মধ্যিখানে কেউ কেউ হুঙ্কারের সঙ্গে বলতে থাকলেন, এরা কাদের ছেলে? মসজিদে কথা বলছে যে..

আপনার ছেলে বুঝি মসজিদে কথা বলে না? আপনার বাবা বলেন নি?আপনি কী শিশুকালে বুড়ো ছিলেন??? বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলুন,আদরের সঙ্গে মসজিদের কদর শেখান।বলুন, নমাজ চলাকালীন কথা বললে নমাজীদের মনোযোগ হারায়।এটা করবে না,করলে আল্লাহ অখুশি হবেন…।আদরে মজে না এমন বালক কম। যারা বশে আসবে না,ওরা না-বালক! তবুও ইতিবাচক হোক।জানেন তো,আল্লাহর রাসুল বালকদের আগেই সালাম দিতেন…।

আল্লাহর রাসুল দেয় সালাম আর আপনি দিচ্ছেন নিষেধাজ্ঞা!!!

লেখক- ফ্যাকাল্টি, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, টাঙ্গাইল।

Facebook Comments