Home জাতীয় জাতীয় পরিচয় পত্র : সহজেই করুন ভুল সংশোধন সহ সবকিছুই

জাতীয় পরিচয় পত্র : সহজেই করুন ভুল সংশোধন সহ সবকিছুই

3242
জাতীয় পরিচয় পত্র

জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুলভ্রান্তি বা হারিয়ে যাওয়া নিয়ে আমাদের অনকেকেই অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। নতুন যারা জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করবে তারও করনীয় অনেক নিয়মাবলী সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। কোথায় করবে, কীভাবে করবে, কি কি লাগবে ইত্যাদি। আসুন জেনে নেই এই সমস্যা গুলো সমাধানের নিয়ম সমুহ: পরিচয় পত্রে নিজের নাম, পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী, অভিভাবকের নাম, রক্তের গ্রুপ, জন্মতারিখ এবং সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন প্রর্থীকে অবশ্যই সাদা কাগজে “ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্প”- এর পরিচালকের কাছে আবেদন করতে হবে। আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলায় প্রকল্প কার্যালয়ে এর কাছ থেকে পাওয়া ফরমে করা যায় এবং এই ফরম পূরণ পূর্বক নিদিষ্ট কাউন্টারে জমা দিতে হবে। ফরম জমা দেওয়ার পর প্রকল্প কার্যালয় এর কাছ থেকে একটি স্বীকারপত্র (নম্বর সহ)পাওয়া যাবে।এতে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান এর তারিখ উল্লেখ থাকবে। আর এই তারিখের এক সাপ্তাহ এর মধ্যে কাউন্টার থেকে সংশোধন করা জাতীয় পরিচয় পত্রটি নিতে হবে।

নাম সংশোধনঃ কোন ব্যক্তি তার নিজের নাম অথবা পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর নাম পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে তাকে আবেদন পত্রের সাথে নিন্মউক্ত কাগজ পত্র জমা দিতে হবে।
১। জে. এস. সি/ এস. এস. সি বা সমমান,
২। নাগরিকত্ব সনদ,
৩। জন্মনিবন্ধন সনদ এর অনলাইন কপি,
৪। চাকরির প্রমাণপত্র যদি থাকে ,
৫। পাসপোর্ট,
৬। নিকাহনামা এবং
৭। পিতা, স্বামী অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত এই সকল কাগজপত্র অবশ্যই সত্যায়িত করে নিতে হবে। তবে উল্লেখ কাগজপত্রের মধ্যে যার যেটি আছে, তাই দিলে চলবে।যেমন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এস. এস. সি এর কম হলে তাকে ঐ সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে না। আবার যিনি চাকরি করেন না তাকে চাকরির প্রমান প্রদানের প্রয়োজন হবে না।একই ভবে পাসপোর্ট না থাকলে তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

নাম পরিবর্তনঃ

নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদনের সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ এর সত্যায়িত ফটোকপি ‘যদি থাকে’ জমা দিতে তবে এস. এস. সি এর নিচে হলে দেওয়ার দরকার নেই। বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের কপি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট জমা দিতে হবে। আবেদনকৃত ব্যক্তিকে শুনানির দিন প্রকল্পের কর্যালয়ে  কাগজপত্রের মূল কপি সহ হাজির হতে হবে।
স্বামীর নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়াঃ
বিয়ের পর স্বামীর নাম নামের সাথে সংযুক্ত করতে চাইলে তাকে অবশ্য কাবিননামা ও স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। আবার যদি কেউ বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে স্বামীর নাম বাদ দিতে চাইলে আবেদন কারীকে তালাকনামার সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।

পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তনঃ

পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদন কারীকে আবেদন পত্রের সাথে এস. এস. সি বা এইচ. এস. সি পরিক্ষার সনদ অথবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড এর কপি এবং পিতা মাতার পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটো কপি। পিতা মাতা উভই মৃত হলে ভাই বোনের পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদন কারীর  সাক্ষাৎকার নিতে পারেন।

জন্মতারিখ সংশোধনঃ
যে সমস্ত ব্যক্তি জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন করবেন তাদের এসএসসি অথবা সম মানের সনদের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।তবে এই ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধান বেশি না হলে স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে সংশোধিত পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। অস্বাভাবিক ব্যবধান এর ক্ষেত্রে সনদের মূল কপি কিংবা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ গ্রহন করতে হতে পারে। যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি এর নিচে সংশোধনের আবেদনের সাথে জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়ার আগের ড্রাইভিং লাইসেন্স,জন্ম সনদ,পাসপোর্টের কপি ইত্যাদি জমা দিতে হবে।তবে এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাতকার নিয়ে থাকেন। আবার দরকার হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করতে পারেন।

ঠিকানা সংশোধনঃ
শুধু মাত্র ভোটার তালিকা হালনাগাদ এর সময় ঠিকানা সংশোধনের আবেদন করা যাবে।তবে বর্তমানে শুধু জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারি মাসে হালনাগাদ করার সুযোগ রয়েছে।ভোটার হালনাগাদ এর সময় এলাকা বদলাতে হলে নতুন ঠিকানার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে ফারম -১৩/১৪ পূরণ করে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসের বরাবর আবেদন করতে হবে।তবে ঠিকানার সমান্য বানান ভুল যেমন বাড়ির নাম, নম্ভর , সড়ক নম্ভর ইত্যাদি সংশোধন সুযোগ প্রকল্প কার্যালয়ে।

রক্তের গ্রুপ সংশোধনঃ
রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন এর ক্ষেত্রে মেডিকেল প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।  পিতা ,মাতা বা স্বামী কে মৃত উল্লেখ করতে হলে তাদের মৃত সনদ প্রদান করতে হবে। ভুল ক্রমে পিতা বা মাতা কে মৃত প্রকাশ করলে সংশোধন করতে হলে উক্ত ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখির কারতে হবে।

পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলেঃ
পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে নিকটস্থ থানায় ন্যাশনাল আইডি নম্ভর উল্লেখ করে সাধারণ ডয়রি করতে হবে। এর পর ডয়রির কপি প্রকল্প কার্যালয় থেকে পাওয়া ছকের আবেদন পত্রের সাথে জমা দিয়ে স্বীকারপত্র নিতে হবে।

অভিবাসীরা যেভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেনঃ
দেশের বাইরে থাকা অভিবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলে তাদের অবশ্য দেশে আসতে হবে এবং পাসপোর্ট থাকতে হবে। তবে যদি কারো পাসপোর্ট না থাকে, তাহলে তাকে এমন কোন কাগজ প্রমান দাখিল করতে হবে যে তিনি বিদেশে ছিলেন এটা প্রমাণ করে। আর এই প্রমান নিয়ে তাকে তার নিকটস্থ উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যারয়ে। এবং তিনি জাতীয় পরিচয় পত্র এবং ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন জমা দেবেন। নিয়ম তান্ত্রিক কার্য প্রক্রয়া শেষ করার পরে আবেদন কারীর ফরম সহ আনুশষঙ্গিক কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে জেলা নির্বাচন অফিসে এবং এখান থেকে কার্য সম্পূর্ণ কারার পর সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতাধীন “ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্প”এর দপ্তরে। আবার জেলা পর্যায়ে কার্যপ্রনালী সম্পন্ন কারার পার আবেদনকারী নিজেই হাতে হাতে প্রকল্প কার্যালয়ে নিয়ে আসতে পারেন।আর একই সাথে এখানে আবেদন কারীর কাছ থেকে নেওয়া হবে হাতের ছাপ এবং চোখের  স্ক্যান। এই সকল কাজ শেষ হওয়ার পর তাকে একটি রশিদ প্রদান করা হবে।তাতে তিনি মাত্র ১৫ দিনে প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে পরবেন। আবেদন  কারীর সাথে অবশ্যয় রশিদ থাকতে হবে।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলেঃ

কারো বয়স ১৮ বছর হলেই তিনি ভোটার তালিকায় নাম উঠানোর আবেদন করতে পারবেন।প্রত্যক উপজেলায় সর্ভার স্টেশন তৈরির কাজ চলছে।

যোগাযোগঃ

ভোটার বা ন্যশনাল আইডি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন

https://services.nidw.gov.bd/

উপজেলা নির্বাচন কমিশনার এর কার্যালয় ও

“ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্প এর আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবন কার্যালয়ে।

ই-মেইলঃ info@nidw.gov.bd

হেল্পলাইনঃ 105

যোগাযোগের সময় : রবি-বৃহস্পতি, সকাল ৯:০০টা – বিকাল ৫:০০টা পর্যন্ত।

Facebook Comments