Home প্রান্তজনের কথা ঘটা করে ঘটনা হয়, সংস্কৃতি নয়..

ঘটা করে ঘটনা হয়, সংস্কৃতি নয়..

73
SHARE

একদিন বাঙালি ছিলামরে…।এই কথাটা গানে কেন এলো? কেন জনপ্রিয় হলো? কুমার বিশ্বজিতের কণ্ঠের জন্যে?
না,গানের কথাগুলো নির্মম পরিহাস হয়ে আমাদের বাঙালিয়ানার শতছিদ্র উন্মোচন করেছে বলে? ভাবুন…। উত্তর দিয়েন জনাব!

কাল থেকে শুভেচ্ছাতাপে শুভকামনাচাপে আমার ইনবক্স ঠাসা।ব্যক্তি আমি নানান শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক অসুখে পর্যুদস্ত। ফলে কারো শুভবাণী বা সুন্দরবচন যেমন গিলতে পারি না,তেমনি ফেলে দেয়াও দায়…।সারাবছর কত দুক্ষুদারিদ্র‍্যে দিন কাটে..খবর নাই। কোন কোন দিবসে আপনার হঠাত আমাকে/তাকে /উনাকে মনে পড়ে গেল?! আপনি কী জানেন, একটা সামান্য প্রবোধবাক্য ধুয়ে দিতে পারে পাহাড় পরিমাণ জঞ্জাল!

বাংলা সংস্কৃতি জিনিশটা কী? কে কতটা বাঙালি তা যেমন মুখোশে ভাসে না,তেমনি পান্তায়ইলিশেও আসে না। ওই যে কবিতা ” জানেন দাদা,আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না!” ফেবুতে প্রায় সবাই বাংলার চর্চা করছেন,এইটা হচ্ছে ভালো দিক। আবার অনেকেই লিখেছেন, Happy Bengali new year 1426…কেন? আমি আপনি চিৎকার করলাম বা না করলাম ইয়ার হ্যাপি না আনহ্যাপি হবে জানি না! এইটা একটা প্রথা, রীতি। এইখানে জোরজবরদস্তি অনুচিত…।

দেখুন, হুজুগে বাঙালি কথাটা মামুলি নয়।আমরা শেকড়ের প্রতি বড্ড বেখেয়াল। মা মাতৃভাষা,মাতৃভূমি নিয়ে আমাদের সাম্প্রতিক দায়বদ্ধতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি অনেকেই! আমিও এই অভিযোগ থেকে মুক্ত নই। ভাবুন…।আমি ভাবছি, তাই লিখছি…।

এইদেশের যা আদি অকৃত্রিম তার সবকিছু নিয়েই আমাদের সমবায়ী সংস্কৃতি। কেউ বাদ যাবে না এই পতাকাতলে,তবেই সুসার পাই।ভাগবিভাগ দলমল কইর‍্যা আর যাই হোক মানবীয় সভ্যতা সংস্কৃতির সেবা হয় না।
“সবাইকে বাসিব ভালো করিব না আত্মপর ভেদ।” অমন কথা কবিতায় থাকিবে…।আর নিত্যাচারে ভণ্ড সেজে পহেলা বৈশাখে রঙিন পাঞ্জাবিতে সুমধুর বাণী ছাড়বো মঙ্গলের,তা হয় না! মঙ্গলগ্রহ একজিনিস আর মঙ্গলগৃহ অন্যজিনিশ…।

আমরা দিবসে দিবসে মঙ্গলগ্রহের প্রাণির মত অহিংস অভেদ আর অভয়ের মুক্তো ছড়াই।দিবস গেলেই সেই কদাকার সংকীর্ণ অন্তঃসারবিহীন মানুষটি বেরিয়ে আসে…।আসে যে…। রোজার পরদিনই মসজিদ খালি হয়! ঈদ গেলে সাম্যভাইয়া আকাশে নীত হন বুঝি! ২১ ফেব্রুয়ারি যাবার আগেই ইংরেজি মাধ্যমের শংসায় মাতি…।আর যাই বলেন, বাংলা মাধ্যমে বাচ্চা পড়াইয়া স্ট্যাটাস টিকছে না! হ্যাঁ তো..

মিরপুর ১৪ নম্বরে আগুন লেগেছে। এইটা আজকের আবাহন ছিলো না। ভেতরে বাইরে আগুনে জ্বলছে স্বদেশ…। পুড়তে পুড়তে খাটি হচ্ছি কী? নিজেদের প্রজন্ম গেছে, আমার তিন সন্তানের জীবনে কী আসবে তাই ভাবছি!
ঘটা করে ঘটনা করে হৈহুল্লোড় করে উদযাপন হয়,উজ্জীবন নয়! আসুন,উজ্জীবন এর জয়গান নিয়ে…।

আজকের দাবদাহের মত তপ্ত না হোক ১৪২৬ সাল
সবার জন্যে স্বপ্ন যাচি,ঘুচে যাক সব আকাল।

লেখক- মিজানুর রহমান, ফ্যাকাল্টি, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, টাঙ্গাইল।

এআর

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here