Home ইসলামিক ঈমানহীন নবীপ্রেমে জান্নাত নেই

ঈমানহীন নবীপ্রেমে জান্নাত নেই

148
SHARE

যারা ভাবছেন- নবী(সাঃ)কে ভালোবাসলেই, কিংবা তাঁর উম্মত হলেই জান্নাত পাওয়া যাবে- তারা মহাভ্রান্তির মধ্যে আছেন! রসূল(সা:)কে মহব্বতের জন্য জান্নাত মিলবে না- সাফ কথা!!

নবী-রসূলকে ভালবাসার বিনিময়ে যদি জান্নাত পাওয়া যেত, তাহলে সেটার জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার কারা?

উত্তর হল- নবীগণের পরিবার-পরিজন; স্ত্রী-সন্তান, পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়।

আর যদি তা-ই হয়, তাহলে-
আদম(আঃ)এর পুত্র কাবিলের কী হবে?
ইবরাহিম (আঃ)এর পিতা আযর?
নূহ(আঃ)এর পুত্র কিনআন?
লুত (আঃ)এর স্ত্রী?…

মহানবী(সাঃ) শিশুকালেই মাতৃ-পিতৃহীন হয়ে গেলেন। অতঃপর চাচা আবু তালিব তাঁকে স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখেন।

শুধু কি তাই?

ইয়াতিম ভাতিজা মুহাম্মদ(সাঃ)-কে স্বীয় পুত্র আলী(রাঃ)এর চেয়েও বেশি ভালবাসতেন।

আবু তালিবের ভালবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে- ‘শিয়াবে আবু তালিব’ কারাগার। মূলত সেটি ছিল তিনদিকে পাহাড়বেষ্টিত কাঁটাযুক্ত বৃক্ষময় একটি মরু এলাকা। ইসলাম গ্রহণের অপরাধে মক্কার কাফিররা এখানে রসূল(সাঃ)কে তিন বছর কারারুদ্ধ করে রেখেছিল। আর এটি হচ্ছে পৃথিবীর সর্বযুগের সবচেয়ে নিষ্ঠুর কারাগার, যেখানে ইমান আনার অপরাধে নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ মুসলিমদেরকে সুদীর্ঘ তিন বছর যাবত খাদ্য-পানীয় ছাড়াই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল! ক্ষুধার যন্ত্রণায় তাঁরা সেখানকার কাঁটাযুক্ত গাছের ডাল-পালা চিবিয়ে খেয়েছেন। সেই কাঁটাগুলো বিদ্ধ হয়েছিল নবী(সাঃ) এর জিহ্বায়, ঠোঁটে। টপটপ করে রক্ত ঝরে ঝরে পড়েছিল অবরুদ্ধ মানুষগুলির গাল বেয়ে বেয়ে।

সেই বন্দি মুসলিমদের দলে ছিলেন আবু তালিবও! অথচ আবু তালিব কখনোই ইসলাম গ্রহণ করেননি। কেবল ভাতিজা মুহম্মদ(সাঃ)কে প্রাণ দিয়ে মহব্বত করতেন বলেই তিনি স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকে ক্ষুধা-তৃষ্ণা আর কাঁটার যন্ত্রণা ভোগ করে গেছেন সুদীর্ঘ তিন বছর!

একজন কাফির হয়েও আবু তালিব নবী(সাঃ)এর প্রতি যে ভালবাসা প্রদর্শন করেছেন, নিঃসন্দেহে আমাদের কথিত ভালবাসা তার সাথে তুলনার যোগ্যতাই রাখে না।

এত অকৃত্রিম আর সীমাহীন ভালবাসার পরেও আবু তালিবের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালা আমাদেরকে জানিয়েই দেয়া হয়েছে!

সুতরাং রসূল(সাঃ)কে ভালবাসার বিনিময়ে যদি জান্নাত পাওয়ার কোন সুযোগ থাকত, তাহলে আবু তালিব আমাদের চেয়ে নিশ্চিতভাবে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি জান্নাতের হকদার!

আল্লাহ তায়ালা আমাদের মুক্তির জন্য নবীকে ভালবাসার কথা বলেননি; বরং বলেছেন-
“বলো! তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে ‘অনুসরণ’ করো(নবী সাঃ-কে), (আর তা হলেই কেবল) আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন; আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াবান।” –আলে ইমরান:৩১।

অতএব, আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেবল মুখে মুখে নবীপ্রেম, আর বাস্তবে ইসলামি আক্বিদার বিপরীতে অবস্থানকারী আশেক-মাশেকদের জন্য এটা একটা চরম হুশিয়ারি!

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন।

লেখক- এটিএম গোলাম ছারওয়ার হিরো, প্রভাষক, সোনাপুর ডিগ্রী কলেজ, নোয়াখালী।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here