Home ইসলামিক আল্লাহ আমাদেরকে কেনো রমজান দান করেছেন?

আল্লাহ আমাদেরকে কেনো রমজান দান করেছেন?

169

প্রথমত একটি উদাহরণ থেকে আপনাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করব। আল্লাহ আমাদেরকে একটি শারীরিক গঠন দিয়েছেন। কিছু অঙ্গ-প্রতঙ্গ দিয়েছেন এবং এদের কিছু কাজ দিয়েছেন। যখন আমাদের শরীরের কোন অঙ্গের সমস্যা হয় অথবা আমরা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন নিশ্চয়ই আমরা ডাক্তার দেখাই অথবা হাসপাতালে ভর্তি হই। ডাক্তার যখন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক ইঞ্জেকশন দেন অথবা চিকিৎসার জন্য কোন অঙ্গপ্রতঙ্গের কাটা ছেঁড়া করেন তখন আমরা ধৈর্য সহকারে সহ্য করে থাকি। কারণ এটি সাময়িক যন্ত্রণাদায়ক হলেও আমাদের ভালো হওয়ার জন্য করা হয়। বিনিময়ে আমরা ডাক্তারকে টাকাও দিয়ে থাকে। অথচ বাহিরের কেউ যদি আমাকে বিনা কারণে শূই অথবা কাটা ছেড়ার জন্য উদ্যত হয় তখন আমরা রীতিমতো যুদ্ধ শুরু করে দিই। এ তো গেল শরীরের চিকিৎসা কিন্তু আমাদের আত্মার চিকিৎসা কিভাবে হবে? আমরা যখন অপরাধ করি, বিভিন্ন ভাবে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অপ ব্যবহার করি অথবা বিভিন্ন ভাবে আমাদের আত্মাকে কলুষিত করি তখন আমাদের আত্মা অসুস্থ হয়ে যায়। এই অসুস্থ হয়ে যাওয়া আত্মা আমাদেরকে আরো বেশি হিংস্র এবং অপরাধে লিপ্ত করিয়ে রাখে। তাই মহান রাব্বুল আলামিন আত্নার আত্মিক চিকিৎসার জন্য রমজান নামক হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার জন্য মানব জাতিকে নির্দেশ করেছেন। বান্দা ১১টি মাস বিভিন্নভাবে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গুনাহ করে তার আত্মাকে কুলষিত করে অসুস্থ করে ফেলেছে। এখন যদি সে একটি মাস ধৈর্য ধারণ করে রমজানকে পরিপূর্ণভাবে পালন করে তাহলে তার আত্মার পরিপূর্ণ চিকিৎসা হয়ে যাবে। সুস্থ আত্নার মাধ্যমে বান্দা আরো ১১টি মাস মোটামুটি চলতে পারবেন। রমজান নামক হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি নিম্নরূপ: আপনি শুধু সেহরি অথবা ইফতার খেলেই যে রমজান রোজা পালন হবে ব্যাপারটা কিন্তু তা না। প্রথমত আত্মার আত্মিক চিকিৎসার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অপরিহার্য। আপনার পবিত্র মুখ দিয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত দরকার অথবা জিকির অথবা দোয়া দুরুদ পাঠ করা দরকার। গীবত,মিথ্যা গালিগালাজ, ঝগড়া এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলে আপনার মুখের রোজা হয়ে যাবে। আপনার কান দিয়ে যদি কোরআন তেলাওয়াত অথবা ওয়াজ শুনেন তাহলে আপনার কানের রোজা হয়ে যাবে। হাত এবং পা দ্বারা যাবতীয় ভালো কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। আপনার হাত দিয়ে বেশি বেশি দান করে সম্পদের হক আদায় করতে হবে।মনে রাখবেন আপনার হাত পা দ্বারা কেউ যদি ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে রোজার হক আদায় হবে না। আপনার চোখ দিয়ে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থেকে কোরআন তেলাওয়াত অথবা হাদিস দেখে পড়ার মাধ্যমে আপনার চোখের রোজা হয়ে যাবে। আপনার চিন্তাশক্তি ভালো কাজে এবং ভালো কিছু করার জন্য ব্যবহার করলে রোজার হক আদায় হয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এত সংযম অথবা এত কষ্ট কিভাবে করব? প্রথমত সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকা আবার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চিকিৎসার জন্য এত কিছু করতে হবে তা কিভাবে সম্ভব? হাঁ ভাই সম্ভব এখন যদি আপনার হঠাৎ কঠিন কোন অসুখ হয় আর ডাক্তার যদি আপনাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে যদি বলে আপনার অঙ্গ পতঙ্গ সব অপারেশন করতে হবে তাহলে কিন্তু আপনি বাঁচার জন্য সব শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে হলেও সিঙ্গাপুর চলে যাবেন। কিন্তু আত্মার চিকিৎসা ব্যতীত আপনি আল্লাহর নৈকট্য কিভাবে হাসিল করবেন অথবা আপনার চিরস্থায়ী গন্তব্য জান্নাতে কিভাবে যাবেন? তাই যত কষ্টই হোক আপনাকে রমজানের হক আদায় করে আত্মার চিকিৎসা করতে হবে। কারণ এই রমজানের পুরষ্কার ,এই ত্যাগের পুরস্কার মহান রাব্বুল আলামীন নিজের কুদরতি হাতে দান করবেন। যুদ্ধের ময়দানে ঢাল যেভাবে মানুষের জীবনকে রক্ষা করার কাজে ব্যবহার করা হয় তেমনি ভাবে রমজান যাবতীয় অপরাধ কে প্রতিরোধ করার জন্য ঢালস্বরূপ। তাই আপনাকে কঠিন সাধনা করতে হবে এবং বেশি বেশি এবাদত করে আল্লাহকে রাজি-খুশি করার মাধ্যমে জীবনের সফলতা নিয়ে আসতে হবে। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে রমজানের পরিপূর্ণ হক আদায় করে রোজা রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করি এবং মহান রাব্বুল আলামিন যেন আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করেন। আমিন।

লেখক ও গবেষক- মুহাম্মদ ফেরদাউস আলম, শিক্ষক,মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ, গাজীপুর শাখা, ঢাকা।

Facebook Comments