Home আমাদের উপকূল আজ আমাদের কান্নার দিন!

আজ আমাদের কান্নার দিন!

20
SHARE

বাঙালি-মুসলিম সংস্কৃতি পাশ্চাত্যের ভাবধারা ও কুসংস্কারে ভয়ঙ্করভাবে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। পৌত্তলিকতা বা খ্রিস্টানদের রীতি-আদর্শের অনুপ্রবেশ ঘটেছে আমাদের মুসলিম সমাজে। ইহুদি-খ্রিস্টানদের অনুসরণে আমরাও পালন করছি- বিশ্ব ভালবাসা দিবস, থার্টিফার্স্ট নাইট; এমনকি কারো স্মরণে পালন করছি ‘এক মিনিট নীরবতা’ নামক চরম ফাজলামির এক অপপ্রথা।

পরিতাপের বিষয়, মুসলিমদের একটি রুচিশীল এবং স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতিকে সাদরে গ্রহণ, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, মডেলিং কিংবা সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারীদেহ প্রদর্শনী ইত্যাদি চরম ধ্বংসাত্মক কুপ্রথা মুসলিমদের মাঝেও বিস্তার লাভ করেছে।

ইহুদি-নাসারাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কুরআনুল কারীমে বারবার সাবধান করেছেন। অথচ আমরা বরাবর তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়েই যাচ্ছি। বন্ধুত্বের বেশে ওরা যে চিরকালই মুসলিমদের সাথে ছলনা করে গেছে, তার একটি বড় প্রমাণ আজকের এই দিন!

এই হচ্ছে সেই দিন, যেদিন খ্রিস্টানদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে স্পেন তথা সমগ্র ইউরোপ থেকে নির্মূল হয়েছিল শান্তিপ্রিয় মুসলিম জাতি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, সম্রাট রডারিকের স্বেচ্ছাচারিতা, শাসন-শোষণ আর নির্যাতনে স্পেনবাসী যখন জর্জরিত, তখন সেখানে শান্তির দূত হয়ে আবির্ভূত হন মুসলিম বীর সেনাপতি তারিক। মাত্র ৫ হাজার সৈন্য নিয়ে তারিক মুখোমুখি হলেন সম্রাট রডারিকের। ৬০ হাজার সৈন্যবেষ্টিত রডারিক সেদিন তারিকের ক্ষুদ্র বাহিনীকে তাচ্ছিল্য করেছিল।

অসম সেনাসমাবেশ দেখে নিশ্চিত জয়ানন্দে সেদিন রডারিকের ভেতর-বাহির অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেও শেষহাসিটা হেসেছিল মুসলিমরাই। সেনাপতি তারিকের ক্ষুদ্র বাহিনীর ঈমানের তেজস্ক্রিয়তায় মুহূর্তেই ভস্ম হয়ে গিয়েছিল রডারিকের বিশাল বাহিনী।

তারপরের ইতিহাস আলো ঝলমলে দিনের।

৭১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে টানা ৮০০ বছর স্পেনে ছিল মুসলিমদের গৌরবময় শাসনের ইতিহাস। শান্তি ফিরে এলো। স্পেনবাসী দলে দলে ইসলামের পতাকাতলে শামিল হতে লাগলো। ক্রমে ক্রমে সনস্ত ইউরোপ পরিণত হল এক শান্তির জনপদে।

ইহুদি-নাসারাদের ঘুম হারাম। তারা উপায় খুঁজতে শুরু করল, কী করে মুসলিমদের ঘায়েল করা যায়। শত শত বছর ধরে হাজার হাজার চক্রান্ত হল। কিন্তু কোনো কিছুই মুসলিমদের পাহাড়প্রমাণ অটল ঈমানের কাছে দাঁড়াতেই পারল না।

অবশেষে এক অভিনব চক্রান্তের জাল বুনলো ইহুদিরা। মুসলিম ছদ্মবেশে ইহুদিরা ছড়িয়ে পড়ল গোটা স্পেনে। তাদের সুন্দরী নারীরা মুসলিমদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো।

ক্রমে ক্রমে মুসলিমদের ভেতর অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটতে শুরু করলো। ইসলামি আদর্শ ভুলে গিয়ে মুসলিমরা যখনই বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ করতে গিয়ে অশ্লীলতা আর ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে গেল, তখনই এসে গেল তাদের চূড়ান্ত পতন।

১৪৯২ খ্রিস্টাব্দ। রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলা অতর্কিত স্পেন আক্রমণ করে। দিশেহারা মুসলিমরা প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। যেখানেই মুসলিমদের পাওয়া গেল, সেখানেই হত্যা।

অতঃপর ঘোষণা হল- মুসলিমদের সাথে সন্ধি করা হবে। সন্ধি করতে ইচ্ছুক মুসলিমরা যেন মসজিদসমূহে প্রবেশ করে। মসজিদে আশ্রয় গ্রহণকারী মুসলিমরা নিরাপদ; বিদ্রোহীদের হত্যা করা হবে।

ইহুদি-নাসারাদের এই চক্রান্ত গুটিকয়েক মুসলিম নেতা বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু ঈমানের দূর্বলতার কারণে অধিকাংশ মুসলিম খ্রিস্টানদের কথাকে বিশ্বাস করে মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল প্রতারক খ্রিস্টান আর তাদের মিত্র ইহুদিরা। তারা মসজিদগুলির ফটক বন্ধ করে দিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে।

ইহুদি-নাসারা মিত্রবাহিনী যেই দিনটিতে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল, আজকের এই দিনটি হচ্ছে সেই দিন- ১ এপ্রিল ১৪৯২!

রাজা ফার্ডিন্যান্ড সেদিন মুসলিমদের বোকামির জন্য অট্টহাস্য করে আগুনে পুড়ে ছটফট করে মরতে থাকা মুসলিমদের বলেছিল- “এপ্রিল ফুল!” এপ্রিলের বোকা!

আমরা সত্যিই এপ্রিলের বোকা। তা নাহলে, মুসলিম জাতি আধুনিকতার নামে বেহায়াপনা আর অসুস্থ অপসংস্কৃতির নর্দমায় আবার কী করে ডুব দিতে পারে? শুধু কি তাই? ইতিহাস ভুলে এ জাতি আজ পাশ্চাত্যের নোংরামিকে আপন সংস্কৃতি জ্ঞান করেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না, ইসলামি সংস্কৃতির বিপরীতে পালন করছে ভ্রষ্টদের বানানো রীতি-নীতির যত্তোসব অপ-অনুষ্ঠান!

আক্ষেপের বিষয় এই-
যে দিবসে মুসলিম জাতির সাথে প্রতারণা করে সৃষ্টিকূলের নিকৃষ্টতম জাত ইহুদি-নাসারাগণ এত বড় নিকৃষ্ট হত্যাকান্ড সংঘটিত করলো, আত্মবিস্মৃত হয়ে আমরা মুসলিমরাই অন্যদের দেখাদেখি আজ অন্যকে ধোকা দিয়ে সেই দিবসটিকে ‘এপ্রিল ফুল’ দিবস হিসেবে পালন করছি!

মুসলিম জাতির জন্য এর চেয়ে লজ্জার, অপমানের আর কী আছে?

 

লেখক- এটিএম গোলাম ছারওয়ার হিরো, প্রভাষক, সোনাপুর ডিগ্রী কলেজ।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here